নুর হোসেন বাহিনীর চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাকেরগঞ্জবাসী।

নুর হোসেন পেটুয়া বাহিনীর চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাকেরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নে স্থানীয় এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ঠিকাদারের ভবন নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন (জজ মিয়া) নামের ওই ঠিকাদার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সম্প্রতি চাঁদাবাজ নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। খোজ নিয়ে যানা গেছে, নিয়ামতি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাহির থেকে বিশেষ করে বেতাগী, বরগুনা, মির্জাগঞ্জ, কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলা থেকে কেউ জমি কিনে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে এলে ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ নুর হোসেনকে মোট অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। এমনকি সন্ত্রাসী নুর হোসেনের কাছে তার আপন ভাইয়েরাও জিম্মি। এলাকার কেউ তার ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের উপর হামলা, নির্যাতন ও মামলার শিকার হতে হয়। যে কারণে তার ভয়ে কেউ তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নিয়ামতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার শেল্টারে চাঁদাবাজ নুর হোসেন ভুমিদস্যুতা চালিয়ে রাতারাতি কোট টাকার মালিক বনে গেছেন।

ইউপি সদস্য পিন্টু জানান, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক জমি জবর দখলের অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে পরবর্তীতে সে ওই জমিতে মূল মালিকদের বাড়ি নির্মাণ করার সুযোগ দেয়।

ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন মাসুম মাষ্টার বলেন, নাসির উদ্দিন খান জজ একজন ভদ্র মানুষ। তার সাথে জমি নিয়ে জনৈক লুৎফুন্নাহারের বিরোধ ছিল। তিনি প্রায় এক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদে বসে উভয়ের মধ্যে আপোষ মীমাংসা করে জজ মিঞাকে রোয়াদাদ নামা দেয়। তিনি জজ মিঞার নিকট জনৈক নুর হোসেনের ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি পত্রিকায় পড়ে জেনেছেন।

নাসির উদ্দিন খান জজ বলেন, আমি বেতাগীর বাসিন্দা হয়েও বাকেরগঞ্জের মানুষের সাথে মিলে-মিশে বসবাস করার প্রয়াসে নিয়ামতি বাজার সংলগ্ন ১৭ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করি। এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু নুর হোসেন আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি উক্ত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে নুর হোসেনরা আমার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় আমি বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে চাঁদাবাজ নুর হোসেনসহ আরও ৪/৫ জনের নামে একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছি। মামলা দায়ের করার পর থেকে ভূমিদস্যু নুর হোসেন আমাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি চাঁদাবাজ নুর হোসেনের পক্ষাবলম্বন করে ৩-৪ জন লোক নিজেদের মিডিয়া কর্মি পরিচয় দিয়ে আমার নিকট অর্থ দাবি করছে। তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তারা আমার নামে কয়েকটি ফেসবুক আইডিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে। এতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে নাসির উদ্দিন জজ মিঞা র‌্যাব ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছেন।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে