পৃথিবীর সর্বপ্রথম কুরবানির ঘটনা।

লেখক : মোঃ নুরুল্লাহ আমতলী,

কুরবানীর ইতিহাস খুবই প্রাচীন।সেই আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানীর কাথা আমরা মহাগ্রান্থ আল কুরআন থেকে জানতে পারি। মহান আল্লাহ সুবাহানাহু তা’আলা বলেন,
واثل عليهم نبا ابني ادم بالحق اد قربا فر بانا فتقبل من احدهما ولم يتقبل من اللخر قال لاقتلنك قال انما يتقبل الله من المتقبن-
অর্থাৎ, আমাদের দুই পুত্রের (হাবিল ও কবিলের) বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দিন, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং একজনের কুরবানী কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, ‘আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব’। আপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো সংযমীদের কুরবানীই কবূল করে থাকেন’। (সূরায় মায়িদা ৫-২৭)

যখন হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) পৃথীবিতে আগমন করেন এবং তাদের সন্তান প্রজনন ও বংশ বিস্তার আরম্ব হয়, তখন হযরত হাওয়া (আ.) এর প্রতি গর্ভ থেকে এক জোড়া (জমজ) অর্থাৎ, একসাথে একটি পুত্র ও কন্যা এরুপ জমজ সন্তান জন্ম গ্রহন করত । কেবল হযরত শীস (আ.) ব্যাতীরেকে। কারণ, তিনি একা ভুমিষ্ট হয়েছিলেন। তখন ভাই-বোনা ছাড়া আদম (আ.) এর কোনো সন্তান ছিলো না। অথচ ভাই বোন পরস্পর বিবাহ বন্ধনে অবদ্ধ হতে পারে না। তাই আল্লাহ সুবাহানাহু তা’আলা উপস্থিত প্রযোজনের খাতিরে হযরত আদম (আ.) এর শরীয়তে বিশেষভাবে এ নির্দেশ জারি করেন যে, একই গর্ভ থেকে যে পুত্র ও কন্যা জন্ম গ্রহন করত তারা পরস্পর সহোদর ভাই বোন হিসবে গন্য হবে। কিন্তু পরবর্তী গর্ভে জন্মগ্রহকারী পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহনকারিনী কন্যা সহোদর বোন হিসেবে গন্য হবে না । তাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্য হওয়া বৈধ হবে। সুতরাং সে সময় হজরত আদম (আ.) একটি জোড়ার ছেলের সাথে অন্য জোড়ার মেয়ের বিয়ে দিতেন।ঘটনা ক্রমে কাবিলের সাথে যে সহোদর বোন জন্ম নিয়েছিল সে ছিলো পরমা সুন্দারী। তার নাম ছিলো আকলিমা । কিন্তু হাবিলের সাথে যে সহোদর বোন জন্ম নিয়েছিল সে দেখতে ততটা সুন্দারী ছিলনধ। তার নাম ছিলো লিওযা।
যখন বিবাহের সময় হলো শরীয় ‘নিয়ম অনুযায়ী হাবিলের সহোদর বোন কাবিলের সাথে পড়ল। ফলে হযরত আদম (আ.) তৎকালীন শরয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবিলের আবদার প্রত্যাখান করলেন এবং তাকে তার নির্দেশ মানতে বললেন। কিন্তু সে তা মানল না। অবশেষে হযরত আদম (আ.) তার এ দু’সন্তানের মতোভেদ দূর করার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ কর, যার কুরবানী গৃহিত হবে তার সাথে আকলিমার বিয়ে দেয়া হবে’। সে সময় কুরবানী কবুল হওয়ার একটি সুস্পস্ট নির্দশন ছিলো যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে সে কুরবানীকে ভষ্মীভূত করে ফেলত। আর যার কুরবানী কবুল হতো না তারটা পরে থাকত। যাহোক, তাদের এ কুরবানী সম্পর্কে যা যানা যায় তা হলো- কাবীল ছিলো চাষী। তাই তিনি গমের শীষ থেকে ভালো ভালো দানাগুলো বের করে বাজে মালগুলো দিয়ে একটি কুরবানীর জন্য পেশ করব। আর হাবীল ছিলো পশু পালনকারী। তাই তার জন্তুগুলোর মধ্যে থেকে সেরা পশুটি কুরবানীর জন্য পেশ করল। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবীলের কুরবানীটি ভষ্মীভূত করে দিল। আর কাবীলের কুরবানী যথাস্থানেই পরে রইল। অর্থাৎ, ‌ হাবীলেরটি গ্রহীত হলো আর কাবীলেরটি হলো না। কিন্তু কাবীল আসমানী সিন্দান্ত মেনে নিতে পারল না। সে তার ভাই হবীলের সাথে বিভাদ বাজিয়ে দিল। এমন কি কাবীল তার ভাইকে হত্যা করতে চাইল। কিন্তু হাবীল ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে মার্জিত বাক্য উচ্চরণ করল। হাবীল বলেছিলো, তিনি (আল্লাহ) মুত্তকিদের কর্মই গ্রহন করেন।সুতরাং তুমি তাকওয়া কর্মই গ্রহন করো।তুমি তাকওয়া অবলম্বন করলে তোমার কুরবানীও গৃহীত হতো। তুমি তা করোনি, তাই তোমার কুরবানী প্রত্যাখ্যান হয়েছে। এতে তোমার দোষ কোথায়?… তবুও এক পর্যয়ে কাবীল হবীকে হত্যা করে ফেলল।(তাফসীর ইবনু কাসীর, দুররে মনসূর, ফাতহুল বায়ান, ৩/৪৫ ও ফাতহুল ক্বাদীর, ২/২৮-২৯)
তারপর থেকে বিগত সকল উম্মতের উপর এটা জারী ছিল। আল্লাহ তা’আলা বলেন-
ولكل امة جعلنا منسكا ليدكر وا اسم الله على ما رزقهم من بهيمة الانعام فالهكم اله واحد فله اسلمو اوبشر المبتين-
অর্থাৎ, প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম,যাতে তারা উক্ত পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে ম জন্য যে, তিনি চতুস্পদ জন্তু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন।(সূরা হজ্জ ২২:৩৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লমা নাসাফী ও যামাখশারী বলেন, ‘হযরত আদম (আ.) থেকে হযরত মুহাম্মাদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম পর্যন্ত প্রত্যেক জাতিকে আল্লাহ তা’আলা তার নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানীর বিধান দিয়েছেন। (তাফসীরে নাসফী ৩/৭৯; কাশশাফ, ২/৩৩)।
হযরত আদম (আ.) এর যুগে তারঈ পুত্র হাবীল ও কাবীলের কুরবানীর পর থেকে হযরত ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত চলতে থাকে।মানব জাতীর মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে যতটা শরীয়ত নাজিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যে কুরবানীর বিধান জারী ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের জন্য এটা ছিলো একটি অপরিহার্য অংশ।আল্লাহ সবাইকে কুবরনীর তাৎপর্য বুঝে শুনে তৎনুযায়ী আমল করার তৈফিক দান করুন । আমিন!

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে