মানুষের কাছে ব্যাতিক্রম এক ইউএন ও রাহাত মান্নান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে মোঃ রাহাত মান্নান মোংলা উপজেলায় যোগদানের পর তার নিজের কর্ম দক্ষতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে একের পর এক সরকারের উন্নয়ন ও সেবাধর্মমুলক কাজের পাশাপাশি চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থাপন করেছেন মানবতার এক অন্যন্য নজির। করোনাকালে মানবিক দায়িত্ব পালন করে তিনি উপজেলার সকল মহলে ব্যাপক সুনাম ও প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। স্থান করে নিয়েছেন সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মনে। ২০১৯ সালের ২৬ মে মোংলায় যোগদানের পর মাত্র ১৪ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি সম্প্রতি পদোন্নতিজনিত কারণে গাইবান্দা জেলায় বদলী হয়েছেন। ঈদের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে তার।

মোংলায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে অসংখ্য ভাল কাজের অনুস্বরনীয় দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি। বিদায় বেলায়ও মানবিক কাজ করে যেতে ভুলে যাননি সরকারের মাঠ পর্যায়ের এই চৌকস কর্মকর্তা। তার চলে যাওয়ার শেষ মূহুর্তেও তিনি গত ২৬ জুলাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র গৃহহীন এক‘শ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বিশেষ উপহার নতুন ঘর বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদেরকে।

সম্প্রতি মোংলা উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় থাকা এলাকাগুলোর মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছেন। এরপর আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সরকারী সহায়তা দিতে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ণয় করে পাঠিয়েছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। ওই সময়ে সরকারী বরাদ্দ দেয়া ৬৬ মেট্টিক টন চাল, একথশ বান্ডিল ডেউটিন ও নগদ তিন লাখ টাকা দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে সুষম বন্টন করেছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে মোংলায় আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা, মোবাইলে অসহায় কর্মহীন মানুষের ফোন পেয়ে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ নানা ধরণের মানবিক কাজ করেছেন তিনি। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু থেকে তিনি উপজেলার মানুষকে ঘরে থাকতে বারবার অনুরোধ করে যাচ্ছিলেন, প্রতিদিন উপজেলার বাজার-হাটসহ সমস্ত এলাকায় ছুটে বেরিয়েছেন। সরকারী নির্দেশনা ভঙ্গ করার কারণে চালিয়েছেন একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালতও।

করোনাকালে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম বেশী নিতে না পারেন সেজন্য তিনি উপজেলার বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেন। শুধু তাই নয়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ওসুস্থ্যদের উপযোগী বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। বিভিন্ন ঈদ বা যে কোন উৎসবের সময় তাকে নিজের বেতনের টাকা দিয়ে ভাসমান ছিন্নমূল মানুষদের সহায়তা করতে দেখা গেছে।

উপজেলা সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে মোংলা উপজেলায় ২১ হাজার ৩শ পরিবারকে চাল ও নগদ অর্থ, ২ হাজার পরিবারকে শিশু খাদ্য, ২শ পরিবারকে শুকনো খাবার, ২ হাজার ৫শ টাকা করে ৭ হাজার ৪শ পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি বাল্য বিয়ে ও যৌতুক প্রথা বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি জমি উদ্বার এবং মাদক নির্মূলে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি যেখানেই থাকি মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করতে আমি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এতে যত বাধাই আসুক পিছপা হবো না। তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সহযোগীতা করার জন্য বিদায় বেলায় মোংলা উপজেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

মোংলা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, ক্রীড়া পরিষদের আহবায়ক ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম বলেন, ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ ছিলেন। তিনি উপজেলার দায়িত্বপালনকালে খেলাধুলার মান উন্নয়নে নানা অবদান রেখেছেন। মোংলায় একটি পরিত্যাক্ত সিনেমা হলকে তিনি ইনডোর বানিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি সব সময় সক্রিয় ছিলেন। সারা বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের এমন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে থাকলে সরকারী সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়াও তিনি যেখানে যাবেন সেখানের ক্রীড়াঅঙ্গনের ব্যাপক উন্নোতি হবে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়াও মোংলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নানকে।

মোংলা প্রেসক্লা সভাপতি এইচ এম দুলাল ও বাংলাভিশন টেলভিশনের সাংবাদিক, মোংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মোংলা শাখার উপদেষ্টা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি তার কর্মকান্ড ও পরামর্শের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সংবাদকমর্মীদেরকে নানাভাবে সহায়তা প্রদাণ করেছেন, যেটা আসলেই বিরল এবং যা মানবিকতার পরিচয় বহন করে। এছাড়া ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোঃ রাহাত মান্নান নজির স্থাপন করেছেন। সরকারী নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি মানবিক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। বিদায় বেলায় তার ভবিষ্যৎ জীবনের আরো বেশি সফলতা কামনা করছি। #

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে