রংপুরের এ্যাডভোকেট বেলাল আহমেদ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নাম এ্যাডভোকেট বেলাল আহমেদ, জন্ম ১৯৮১ সালের ২রা জানুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় সেরুডাঙ্গা গ্রামে। পিতা মৃত ইলিয়াস আহমেদ এবং মাতা বেগম রোকেয়া’র দ্বিতীয় সন্তান তিনি। এ্যাড, বেলাল ১৯৯৫ সালে এস এস সি, ১৯৯৭ সালে এইচএসসি, এবং ১৯৯৯ সালে বি এস এস পাশ করেন। তিনি ২০০০ সালে কারমাইকেল কলেজ থেকে বিএ অনার্স এমএ ইতিহাস বিষয় নিয়ে এবং ২০০৬ সালে সাউথ ইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ কৃতিত্বের সাথে উত্তির্ন হন। এরপর ২০১৫ সালে রংপুর ল কলেজ থেকে এল এল বি পরিক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তির্ন হন।

এ্যাডভোকেট বেলাল।

এ্যাডভোকেট, বেলাল একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, ও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ছোটবেলা থেকেই যিনি স্বপ্ন দেখেন সুন্দর, সুশৃঙ্খল সোনার বাংলার। কিন্তু বাদ সাধে কিছু অর্থলোভী, মুনাফাখোর, দূর্নীতিবাজ এবং অসাধু ব্যবসায়ী। তাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে নিয়মিত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন জনাব বেলাল। সমাজে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত সাহায্য করে যাচ্ছেন। যেখানেই খোঁজ পাচ্ছেন সেখানে ছুটে গিয়ে তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় এ্যাড, বেলাল ছিলেন ফ্রন্ট লাইনের যোদ্ধা, (করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির) রংপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দিয়েছেন সামনে থেকে নেতৃত্ব। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন রাজপথ থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে। হাত বাড়িয়েছেন বিভিন্ন সহযোগিতার।

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাথে এ্যাডভোকেট বেলালের ছবি।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের কথা চিন্তা করে সম্পুর্ণ নিজস্ব খরচে রংপুরের ডেওডোবা নেকের পাড়ায় (বেগম রোকেয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতন) নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে প্রায় ২০০ জনের উপর শিক্ষার্থী সম্পুর্ণ বিনা বেতনে পড়াশোনা করছেন। যেখানে বিনা বেতনে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন এ্যাড, বেলাল নিজেই এবং স্বল্প বেতনে আরও ৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। যার সম্পুর্ণ খরচ জনাব বেলাল নিজেই বহন করছেন।শুধু তাই নয়, সেরুডাঙ্গা গ্রামে কবরস্থান নেই বলে নিজের টাকায় ৫ শতাংশ জমি একলাখ পঁচিশ হাজার টাকায় কিনে দিয়েছেন ২০১৫ সালে যার নাম দিয়েছেন (সেরুডাঙ্গা কেন্দ্রীয় কবরস্থান) এবং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এ্যাডভোকেট বেলাল।

এলাকার যুবকদের নিয়ে সমাজের উন্নয়নের জন্য (সেরুডাঙ্গা সমাজ কল্যাণ পরিষদ) নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান। এবং সেই সংগঠনের মাধ্যমে এলাকার সবাইকে একত্রিত করে সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কমিটিতে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ্যাডভোকেট বেলাল আহমেদ একাধারে একজন কবি এবং সাহিত্যিক। যিনি অসংখ্য ভাওয়াইয়া গান ও কবিতার জনক। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে যার অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন (বেগম রোকেয়া সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ রংপুর) নামে একটি সংগঠন যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ্যাড,বেলাল আহমেদ ১৯৯৫_২০০৬ সাল পর্যন্ত কমিশনে ওষুধ ক্রয় করে নিজেই মার্কেটে বিক্রি করতেন এবং সাথে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু একদিন এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ছুটি চেয়েছিলেন ম্যানেজারের কাছে কিন্তু ম্যানেজার পরিক্ষার জন্য ছুটি না দিয়ে উল্টো বদলি করে দেন নোয়াখালীর হাতিয়ায়। সেখানে কোন মার্কেট ছিলো না তাই চাকুরী ছেড়ে দিতে বাদ্য হয়েছেন। অনেক অনুরোধ করেছিলেন ম্যানেজার কে কিন্তু তিনি তা শোনেননি। এরপর ওষুধ কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সকল প্রতিনিধি দেরকে একত্রিত করে গড়ে তোলেন (ফারিয়া) নামে একটি সংগঠন। যার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব বেলাল আহমেদ।

এ্যাডভোকেট বেলালের ছবি।

ওষুধ কোম্পানির এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা খুব কাছে থেকে দেখেছেন জনাব বেলাল, তিনি দেখেছেন সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হচ্ছে তাই তিনি জনস্বার্থে সেইসব অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনিয়ম-ভেজালের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছেন, সভা-সেমিনার করেছেন, বিভিন্ন অফিস-আদালতে স্বারক লিপি দিয়েছেন এবং গণমাধ্যমেও সোচ্ছার ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারা বাংলাদেশের মানুষকে একত্রিত করার লক্ষ্যে, সুস্থ জাতি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড এই শ্লোগান কে সামনে রেখে (জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ) নামে গড়ে তোলেন একটি সংগঠন।
২০০৯ সাল থেকে পথচলা শুরু করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এর আত্মপ্রকাশ করেন। যা আজ অবধি সম্পুর্ন নিজের খরছে চালাচ্ছেন তিনি।বর্তমানে (জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ) সংগঠন এবং (ফার্মাসিটিউক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ এ্যসোসিয়েশন, ফারিয়া) নামে সংগঠন মিলে সারাদেশে প্রায় আড়াই লক্ষ প্রতিনিধি আছে।

মানবতার স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

এই প্রতিবেদক কে জনাবে বেলাল আহমেদ বলেন, ওষুধ কোম্পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি, হাসপাতাল গুলো সাধারণ মানুষের সাথে যা করছে তা একধরনের প্রতারণার শামিল, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেজন্যই আমি জনস্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে সম্পুর্ণ নিজের অর্থায়নে গড়ে তুলেছি (জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ) নামের সংগঠন। আমি এই সংগঠন চালাতে গিয়ে অনেক হুমকি ধমকির শিকার হয়েছি আমার চলার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে কিন্তু আমি থেমে থাকিনি।

এ্যডভোকেট বেলাল।

এ্যাডভোকেট বেলাল আরও বলেন, এই সংগঠন আমার একার নয়, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এই সংগঠন কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। যারা জনস্বার্থে নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই সংগঠনের সাথে কাজ করতে চান তারা (01718409681) এই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন। এবং আমি সম্পুর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি কিন্তু চালিয়ে নেয়া একা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ অন্যদিকে শিক্ষকদের বেতন সবমিলিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং স্কুলের উন্নয়ন মূলক কাজ করার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। আমি সরকারি-বেসরকারি, ব্যাক্তিগত সকলের সহায়তা কামনা করছি। আমি সেদিনের স্বপ্ন দেখি যেদিন রংপুর থেকে সমগ্র বাংলাদেশ, ভেজাল, দূর্নীতি, নিরক্ষর মুক্ত হবে প্রিয় স্বদেশ।

১ টি মন্তব্য

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে