বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনৈতির শিক্ষক বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক,

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ অজ্ঞাত কারণে বারবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি বিষয়ে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সূত্র জানায়,বহু বছর ধরে তিনি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন কিন্তু তিনি প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতি বিষয়ের শিক্ষক। মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ তিনি তথ্য গোপন করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন অথচ বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে তার ইংরেজি বিষয়ে কোন ক্লাস নেই। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক থাকলেও তাদেরকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষকের দায়িত্ব দেয়না। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন আমি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করেছি একবার পরিক্ষক হয়েছিলাম।অজানা কারনে আর পরীক্ষক হতে পারি নাই। তিনি বলেন, আমি যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৮ বছর ইরেজী বিষয়ের পরীক্ষক পরে প্রধান পরীক্ষক ছিলাম কিন্তু কখনো অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক কিংবা প্রধান পরিক্ষক হতে দেখি নাই। অর্থনীতির শিক্ষক ইংরেজীর প্রধান পরিক্ষক হওয়া অন্যায় ও নিয়মের খেলাফ। কি বলবো কিছুই বলার নেই।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক শিক্ষক জানান,
আমি ম্যানেজ করার মতন লোক নই যে ম্যানেজ করে পরীক্ষক হবো যারা ম্যানেজ করতে পারে তারাই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক হতে পারে। তিনি বলেন, আমি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষক হওয়ার জন্য অনেকবার আবেদন করেছি কিন্তু শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাকে পরীক্ষকের দায়িত্ব দেয়নি বোর্ডে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তোষামোদ করে পরীক্ষক হওয়ার ইচ্ছা আমার নেই যারা তোষামোদ করতে পারে তারাই দেখা যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডের বড় বড় দায়িত্ব পাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক শাহাবুদ্দিন বলেন , বলেন যে ব্যক্তি ইংরেজি বিষয়ে শ্রেণিতে পাঠদান করান না সে কিভাবে পাবলিক পরীক্ষার ইংরেজির মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের খাতা দেখেন এই বিষয়ে তার জ্ঞান কতটুকু থাকতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মনে করি এতে শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ একজন অর্থনীতি বিষয়ের শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক এর দায়িত্ব প্রদান করেন কিভাবে তা ও আবার প্রধান পরীক্ষক। আমরা মনে করি এতে শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত এ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে এ ধরনের অযোগ্য শিক্ষক দ্বারা খাতা মূল্যায়ন করানো হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের আশানুরূপ ফলাফল থেকে বঞ্চিত হবে।
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ কে ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক কিভাবে নিয়োগ পেলেন

এ ব্যাপারে পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন
বলেন, একজন অর্থনীতির শিক্ষক ইংরেজী বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হতে পারেনা। এমনটি হয়ে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন ভবিষ্যতে আর যেন এমন না ঘটে সে জন্য আমরা সতর্ক থাকবো।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আ ফ ম বাহরুল আলম বলেন, একজন অর্থনীতির শিক্ষেকর কোন ভাবেই ইংরেজী বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হওয়া সম্ভব না। এর পরেও যদি হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস বলেন, মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে প্রশ্ন করেন যে বোর্ডে কি তথ্য দিয়েছিল। তথ্য গোপন করে যদি কেউ নিজ বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষক হয় তা অন্যায় ও দুর্নীতি। আমি বিষয়টি দেখতেছি।

মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক নিশ্চিত করে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ দেয়া বোর্ডের বিষয় আমাদের বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড করেজের বিষয় নয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন আমি বোর্ডে তথ্য গোপন করি নাই। আমি অর্থনীতির শিক্ষক হলেও বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাকে ইংরেজী বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এতে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে