রোগীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই;দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা।

রোগীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার বরুড়া পৌর এলাকার ফেয়ার হসপিটাল নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) কুমিল্লার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন রোগীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। মামলায় ওই হসপিটালের ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও ডা. মো. রাশেদ-উজ-জামান রাজিবকে আসামি করা হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে রোগীর ভাই ও মামলার বাদী তানজিদ সাফি অন্তর সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে এসব তথ্য জানান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল রাতে বরুড়ার পৌর এলাকার বরুড়া গ্রামের কাশেম শফি উল্লার (কাজল) মেয়ের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ওই দিন রাতে স্বজনরা তাকে বরুড়া ফেয়ার হসপিটালে ভর্তি করান। পরে ১৩ এপ্রিলে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের তত্ত্বাবধানে ডা. মো. রাশেদ-উজ-জামান রাজিব অপারেশন করেন। এ সময় পেটে গজ রেখে সেলাই সম্পন্ন করেন ডা. রাজিব। পরে রোগীর পেটে ব্যথা অনুভব হয়। ব্যথা কমাতে ডা. ইকবাল হাই-পাওয়ার এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেন। এভাবে ৩ মাস চলার পরে রোগীর ব্যথা কমেনি।

পরে রোগীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর তার বোনকে আলট্রাসনোগ্রাফি করান। পেটে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন। ১৮ জুলাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. আজিজ উল্লাহ ও ডা. মাহমুদ রোগীকে অপারেশন করান। রোগীর পেট থেকে পুঁজ বের হয়।

অন্তর জানান, ডা. ইকবাল ও রাজিব আমার বোনের সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া অপারেশন করে। পরে পেটে গজ রেখেই সেলাই করে। আবার ব্যথা হলে এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রাইব করেন। ৩ মাস এমন হাই-পাওয়ারের ওষুধে আমার বোনের অবস্থা আরও খারাপ হয়। সঠিক বিচার চাই। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, অপারেশনের দিন তিনি ছিলেন না। রোগী যেদিন হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছে সেদিনও তিনি হসপিটালে ছিলেন না। তবে তিনি রোগীকে ওষুধ দিয়েছেন। রোগীর অপারেশন করেছেন ডা. রাজিব। অভিযোগের বিষয়ে ডা. রাশেদ উজ-জামান রাজিব বলেন, ‘ঘটনা যেহেতু চার মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, তাই ফাইলপত্র দেখে বিস্তারিত জেনেই কথা বলবো। এখন এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।’

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে