পাশবিক নির্যাতনের শিকার অপহৃত শিশু উদ্ধার, ধরাছোঁয়ার বাইরে অভিযুক্ত ও তার পরিবার


কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোর ও তার পরিবার কর্তৃক অপহৃত সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কিশোর কিংবা তার পরিবারের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উলিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে অপহৃত শিশু শিক্ষার্থীকে থানা হেফাজতে নেয় উলিপুর থানা পুলিশ।
উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে উলিপুর উপজেলার গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে তেরো বছরের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় একই এলাকার নুর আলমের দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন।

গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (খোকা) জানান, অভিযুক্ত কিশোর সোহেল রানার বাবা নুর আলমের সাথে কথা বলে অপহৃত মেয়েকে ফেরত দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়।
পরে শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকারের প্রচেষ্টায় ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ফেরত দেয় ছেলের পরিবার।
উলিপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার জানান, ‘কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা আমার আত্মীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে কৌশলে অপহৃত শিশু শিক্ষার্থীকে আমার কাছে ফেরত দিতে বলি। পরে তারা একটি রিকসা যোগে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে পাঠিয়ে দেয়। পরে শিশুটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’
আট মাসেও পুলিশি হেফাজতে না নেওয়ার সুযোগে ওই কিশোর ও তার পরিবারের লোকজন ভুক্তভোগী শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছে, এমন অভিযোগ করে শিশুটির বাবা বলেন, ‘ আমার মেয়ের বয়স মাত্র তেরো বছর। এই অবস্থায় তাকে বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সে এখনও বিয়ে বা সংসার করার উপযুক্ত হয়নি। আট মাস আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করেনি। সে গ্রেফতার না হলে আবারও সে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন,‘ সোহেল রানা বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে ফুসলিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে আসছে। এ ঘটনায় গত জানুয়ারি মাসে থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তের নামে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তাকে ফুসলিয়ে বারবার সোহেল রানা নির্যাতন করেছে।’
মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারের লোকজন গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি আবারও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারকে গ্রেফতারে পুলিশি অবহেলার বিষয়টি নাকচ করে উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় অভিযান পরিচালনার পরও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি তৎপরতা চলমান রয়েছে।’
ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে