আজ পবিত্র আশুরা।

আজ ২৮ তারিখ পবিত্র আশুরা। মহররম মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা । মুসলিম মিল্লাতের জন্য এ দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এ দিনটির তাৎপর্য উল্লেখ করে গেছেন।

সারা বিশ্বের মুসলমানরা এ দিনটিকে খুবই গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন।রোজা এবং নফল নামাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় রিতী অনুসরণ করে এ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে থাকেন বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম।

এই দিনেই সৃষ্টি করা হয় এই মহাবিশ্ব এবং এই দিনেই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয়। হযরত আদম আঃ কে ও এই আশুরার দিনেই সৃষ্টি করা হয়।

প্রিয় নবী সাঃ এর কলিজার টুকরো হযরত ইমাম হোসাইন রাঃ এবং তার ৭৪ জন পরিবার পরিজনকে এই দিনেই কারবালার প্রান্তরে শহীদ করে জালিম ইয়াজিদ বাহিনী।

ইসলামের ইতিহাসে এমনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বহন করে যাচ্ছে এই দিন। ইসলামের প্রথম দিকে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো।

দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হওয়ার পর থেকে আশুরার রোজাকে নফল হিসেবে পালন করা হয়।

মহররম মাসে রোজা রাখার প্রতি হাদিস শরীফে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (

মুসলিম: ২/৩৬৮; জামে তিরমিজি: ১/১৫৭) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি,

অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারি: ১/২১৮) প্রিয় নবী সাঃ এর জামাতা হযরত আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল,

রমজানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোজা রাখার আদেশ দিবেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট জনৈক সাহাবি করেছিলেন,

তখন আমি তার কাছে উপস্থিত ছিলাম।তাঁর উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রাখো।কারণ, এটি আল্লাহর মাস।

এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’

(জামে তিরমিজি: ১/১৫৭) আশুরার রোজা সম্পর্কে এক হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য ত্যাগ করো; আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখো।’

(মুসনাদে আহমদ: ১/২৪১) এ বছরে আগামীকাল ২৭ ই আগস্ট এবং আশুরার দিন অর্থাৎ ২৮ ই আগস্ট এ ২ দিন রোজা রাখা যাবে। অথবা ২৮ এবং ২৯ ই আগস্ট রোজা রাখা যাবে।

অর্থাৎ আশুরার আগে অথবা পরে একদিন রোজা রাখা আবশ্যক। তাহলে ইহুদিদের সাথে আর সাদৃশ্য থাকে না।কারন,ইহুদিরা শুধু আশুরার দিনেই সওম পালন করে।

আশুরার দিনে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।’

(মুসলিম: ১/৩৫৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন। উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে