কলেজছাত্র তুহিনের ইউটিউবের আয় বৃদ্ধ দম্পতির সেবায়


বলেশ্বর নদের পদ্মা বেড়িবাঁধের উপরে কুঁড়ে ঘরে অনেক বছর ধরে বসবাস করছেন মানবরু (৬২) ও রশিদ (৭০) দম্পতি। প্রতিনিয়ত ঝড় জলোচ্ছ্বাসের মধ্যেই তাদের বেঁচে থাকা।ভাঙন এলাকার বাসিন্দা রশিদ ডাকুয়া (৭০) ও তার স্ত্রী মান বরু বিবি (৬২)। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। আর দুই ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। সিডরের আগে থেকেই পদ্মার এ বাঁধের উপরেই বসবাস করছেন তারা। সিডরের সময় এই পদ্মার বাঁধ ভেঙে একই জায়গা থেকে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই থেকেই এ জায়গার নাম হয় পদ্মা ভাঙন। এ ভাঙনের পাশেই বসবাস রশিদ দম্পতির। সম্প্রতি অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে মানবরুদের বসতিস্থলের বাঁধ ভেঙে মুহূর্তের মধ্যে মানবরু দম্পতির কুঁড়ে ঘরটি ভেঙে যায়। আশ্রয়হীন এই অসহায় দম্পতির উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়। কিন্ত জীবিকার কোনো ব্যবস্থা ছিলনা। এমতাবস্থায় মানবরু দম্পতির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিতুমীর কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তরুণ উদ্যোক্তা মাইনুল ইসলাম তুহিন। ইউটিউব চ্যানেলে থেকে প্রথম রোজগারের অর্থে ওই দম্পতিকে শাড়ি, লুঙ্গি, চাল, ডাল, আলু, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ এক মাসের বাজার সদায় উপহার দেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বলেশ্বর নদের পদ্মা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আস্থা’র সহযোগিতায় কুঁড়ে ঘরে গিয়ে সেই মানবরু দম্পতির হাতে শাড়ি, লুঙ্গি ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন মাইনু্ল।

মানবরু ও তার স্বামী রশিদ ডাকুয়া কাপড় ও বাজার সদায় পেয়ে খুশি।
কথা হয় মানবরুর সঙ্গে। তিনি বলেন, মোরা অনেক কষ্টে থাহি। জমিজমা যা ছিল সব নদীতে লইয়া গ্যাছে। সিডরের আগে থেকেই ওয়াপদার (বাঁধ) উপরে থাহি। হ্যাও নদীতে ভাইঙ্গা গ্যাছে। ঘরের মাটি ভাইঙ্গা যাওয়ায় ঠিক মতো রান্নাও করতে পারিনা।

বৃদ্ধ রশিদ ডাকুয়া বলেন, দুই বুড়াবুড়ি থাহি, একটা নাতি মিষ্টির দোকানে কাম করে। দুএকদিন পর বাজার সদায় দেয় হেইয়া দিয়া দিন যায়। আমরা এই বাজার সদায় ও কাপড় পাইয়া মহা খুশি।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম তুহিন বলেন, বাংলানিউজে প্রতিবেদনটি দেখে আমি এক মাসের বাজার সদায়সহ দুজনকে কাপড়-লুঙ্গি দিয়েছি। বেড়িবাঁধের উপরে বসবাস করা অসহায় আরও ২০ জনকে এক মাসের বাজার সদায় দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার “মুখোশ মানব” নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে সেটা থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ টাকা আয় করেছি। ইউটিউব থেকে আগামীতে যত টাকা আয় হবে তা থেকে অর্ধেক টাকা আমি অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করবো।

পাথরঘাটা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মা বেড়িবাঁধের ভাঙন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ইতোমধ্যেই সরকারিভাবে চাল দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত তরফ থেকে মানবরু দম্পতিকে যে অনুদান দেওয়া হয়েছে সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে