লিয়াকত এর জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত এ আনন্দ করেছিলেন প্রদীপ বিস্তারিত :-

ওসি প্রদীপ  অবসরপ্রাপ্ত  মেজর সিনহার বুকের বাম পাশে লাথি মারেন। লাথির পর সিনহা যখন শব্দ করেন তখন ওসি প্রদীপ তাঁর গলায় পাড়া দিয়ে চেপে ধরেন। তারপর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন ওসি প্রদীপ।

ইন্সপেক্টর লিয়াকত এবং এসআই নন্দদুলালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এই তথ্য।অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় তিন আসামিকে আজ বুধবার কক্সবাজারের আদালতে নেওয়া হয়।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে কক্সবাজার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মামলার আসামি টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মো. আয়াছকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে নেওয়া হয়। পরে বিচারক তাঁর খাস কামরায় ১৬৪ ধারামতে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

এর আগে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে তিন আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। বিকেল সোয়া ৩টায় জবানবন্দি শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ। তার আগে গত ২৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ওই তিন আসামিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রথম দফায় তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছিল।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। এরপর ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়।

পরে মামলার আসামি টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।

সিনহা হত্যা মামলায় র‍্যাব সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে