কুড়িগ্রামের উলিপুরে অটো চুরি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্রমিকলীগের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার-২


কুড়িগ্রামের উলিপুরে চাঁদাবাজি ও অটো চুরির অভিযোগে পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহেল খা (৩৫) ও তার সহযোগি ফরহাদ হোসেন (৩২)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে বের হয়ে পরেছে থলের বেড়াল। মামলায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে অভিনব কায়দায় উপজেলার প্রায় ৩ হাজার অটোচালকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে অটোচালক রাশেদুল ইসলাম পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ শ্রমিকলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ অটো গাড়ি চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১)। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিন পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহেল খাঁ ও তার সহযোগী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন।
মামলার এজাহার ও অটোচালক রাশেদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির ব্যানারে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার অটোচালকের কাছ থেকে গাড়ির নাম্বার প্লেট বাবদ ৫ হাজার ২শ টাকা করে আদায় করে। প্রতিবছর অটোগুলো নবায়ন বাবদ আরো ১ হাজার ৫০ টাকা করে আদায় করে। এভাবে নাম্বার প্লেট বাবাদ ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা এবং নবায়নের জন্য প্রতিবছর ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে গত দশ বছরে বিভিন্নভাবে প্রায় ১৫ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এই চক্রটি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অটো সিরিয়াল বাবদ ওই সংগঠনকে অটোপ্রতি ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা আদায়ের জন্য নেতারা গড়ে তুলেছেন বিশাল ক্যাডার বাহিনী। চাঁদা না দিলে ক্যাডাররা মারধরসহ অটোর ব্যাটারি, সীট, স্পেয়ার চাকা খুলে নেয়। এভাবেও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই নেতারা।
উলিপুর থানায় অভিযোগকারী ও উপজেলার গুণাইগাছ ইউনিয়নের জুম্মারহাট গ্রামের অটোচালক রাশেদুল ইসলাম আরো জানান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া ও পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল খাসহ একাধিক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এই ভাগবাটোয়ারায় যুক্ত। তারা আমার কাছে চাঁদা না পেয়ে মারধোর করে অটো কেড়ে নেয়।
উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অটো চালকদের কাছে কেউ চাঁদা দাবী করলে তা থানায় জানানো হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, অবৈধভাবে দরিদ্র অটোচালকদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া অন্যায়। তা থেকে বিরত থাকার জন্য এমপি মহোদয়, আমি নিজে ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করা হয়েছে। এটা দলীয় কোন কার্যক্রম নয়, এটা ব্যক্তিগত বিষয়। মামলার ব্যাপারে আমাদের কোন দায়-দায়িত্ব নেই। আওয়ামীলীগ কখনই চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে