৮ লাখ টাকা না পেয়ে দুই ভাই কে ক্রসফায়ার দিলো প্রদীপ

এবার ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুই ভাই কে ক্রসফায়ার দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার

বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আট লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুই ভাইকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে করা হয়।
বুধবার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর আদালতে মামলাটি করেন নিহত ব্যক্তিদের বোন জিনাত সুলতানা।  
আসামিরা হলেন টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক এসআই) ইফতেখারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাজহারুল ইসলাম, দীন ইসলাম ও আমজাদ হোসেন। এ ছাড়া টেকনাফ ও ন্দনাইশ থানার অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশসদস্যকে মামলায়অভিযুক্ত করা হয়।
বাদীর আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসান প্রথম আলোকে বলেন, আদালত বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ওই অভিযোগ ওঠার পর সপ্তাহখানেক আগে কেশবকে চন্দনাইশ থানার ওসি থেকে সরিয়ে নেন জেলা পুলিশ সুপার। বর্তমানে তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত। গত ১৬ জুলাই আমানুল হক ও আজাদুল হককে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দাবি করে টেকনাফ থানা-পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁরা দুজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা নিতে চন্দনাইশ থেকে তাঁরা টেকনাফে আসেন।
মামলার বাদী জিনাত সুলতানা  বলেন, চন্দনাইশ ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসির পরস্পর যোগসাজশে তাঁর দুই ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাহলে মামলায় কেন কেশব চক্রবর্তীকে আসামি করা হয়নি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসুক।
গত ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ওই ঘটনায় তাঁর বোনের করা মামলায় ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এরপর প্রদীপের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। জিনাত সুলতানার মামলাটির মধ্য দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ আদালতে জমা হলো।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে