হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে পেটায় নেপথ্যে যুবলীগ নেতা

সরকারি বাসায় প্রবেশ করে প্রথমেই নাইট গার্ডকে বেঁধে ফেলে। তারপর বাসার পিছনে ম‌ই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে। হাতুড়ি দিয়ে আঘাত শুরু করে, যার টার্গেট ভিকটিমের মাথা। মেয়েকে বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধা বাবা এগিয়ে এলে তাঁকেও আঘাত করা হয়। এরপর দুজনে জ্ঞান হারালে মৃত ভেবে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনা দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসায়। কতটা নির্মম আঘাতে হত্যা চেষ্টা করেছে ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ আটক করেছে মূল আসামি আসাদুল হককে। তার হাতের হাতুড়ি দিয়ে‌ই নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়েছিল। এছাড়াও তার সহযোগী আসামি জাহাঙ্গীর‌ আটক হয়েছে পুলিশের হাতে। আর কোন বন্দুকযুদ্ধ নয়, তবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই প্রকৃত অপরাধীদের। যা দেখে ভবিষ্যতে অপরাধীরা একবার হলেও ভাববে।

ওসি জানান, আজ ভোর সাড়ে ৪টায় র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হিলির কালীগঞ্জ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর গ্রাম। বাবার নাম আমজাদ হোসেন।

তিনি আরও জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলার রানিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। 
জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) ঘোড়াঘাট থানায় ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে হত‌্যা চেষ্টার মামলা করেন।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার সরকারি বাংলোতে হামলার শিকার হন ওয়াহিদা খানম। এ সময় তার বাবা ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। ওয়াহিদা খানমকে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে আনা হয়। রাতে অস্ত্রোপচার করে তার মাথার ভাঙ্গা হাড়ের টুকরাগুলো জোড়া দেওয়া হয়।

হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরোসার্জন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অস্ত্রোপচার শেষে রাতে সাংবাদিকদের জানান, ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউএনওকে দেখতে যান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় তিনি ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সুস্থতায় সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশ দেন। 
এরপর রাতে ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে