সকালের নাস্তা সারাদিনের জন্য কতটা উপকারী

প্রতীকী ছবি

সকালের নাস্তাকে সারাদিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। সারারাত পার হওয়ার পর সকালের নাস্তাই খালি পেট ও ভরা পেটের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। এটা শরীরের গ্লুকোজের পরিমাণ বৃ্দ্ধি করে শক্তি সঞ্চয়ের মাত্রা বৃ্দ্ধি করে এবং স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি সঞ্চয় করে।

সকালের নাস্তা উপকারী হওয়ার কারণ

যখন আপনি সারারাত ঘুমানোর পর জেগে ওঠেন তখন আপনি প্রায় ১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন। ফলে সকালের নাস্তার পর আপনি আপনার শক্তি ও শারীরিক পুষ্টি ফিরে পান।

পর্যাপ্ত ভিটামিন ও পুষ্টি

সকালের খাবার পুষ্টির চাবি যা আপনাকে আয়রন,ক্যালসিয়াম,ভিটামিন বি,ফলিট পর্যন্ত পৌছে দেয়। সকালের নাস্তা আপনার সারাদিনের পুষ্টি সঞ্চয় করে। যারা সকালের নাস্তা খায় তাদের শরীরের দৈনিক ভিটামিন ও মিনারেলের পরিমাণ তাদের তুলনায় বেশি থাকে যারা সকালের নাস্তা খায় না।

সকালের নাস্তা স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

গবেষণায় জানা গেছে, সকালের নাস্তা স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে; কারন—

  • এটা রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজের পরিমাণ ওঠানামা করা প্রোতিরোধ করে।

সকালের নাস্তা আপনার বুদ্ধিকে ত্বরাণ্বিত করে

আপনি যখন খালি পেটে কিছু ভাববেন বা চিন্তা করবেন তখন তা বাধাপ্রাপ্ত হবে কারন আপনার ব্রেইনে সঠিক পুষ্টি (গ্লুকোজ) পৌছায়নি।আবার পড়ালেখার ক্ষেত্রে সকালের নাস্তা না করলে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে,মানুষিক চাপ সৃষ্টি হয়, পড়া মনে থাকে না এমনকি সহজ পড়াটাকেও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কঠিন মনে হয়।

গ্যাসট্রিকের সমাধান অনেকাংশে নির্ভর করে সকালের নাস্তায়

প্রায় ১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর পাঁচকতন্ত্র থেকে পাঁচক রস বের হয় যার ফলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। আবার সকালের নাস্তা না খাওয়ার জন্য গ্যাস বেরে বুক জ্বলা,পেট ব্যাথা,ঢেক ওঠা এমনকি শ্বাসকষ্টও হয়ে থাকে।

সকালের নাস্তায় যা খাবেন

সকালের নাস্তায় কি খাওয়া পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর এই বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন এম বি বি এস ডাক্তার এম এ সেলিম। তিনি বলেন –

আটা রুটি,ডিম সেদ্ধ,দুধ,টাটকা ও পরিষ্কার ফল,কিছু বাদাম কিংবা টোস্ট বা বিস্কুট (চিনি কম),বাটার,টমেটো,মাসরুম,সবজি এগুলো সকালের নাস্তার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার।

সকালের নাস্তা না খাওয়ার অপকারিতাসমূহ

যারা সাধারণত সকালের নাস্তা পরিহার করে তাদের –

  • ওজন হয় অতিরিক্ত কম বা অতিরিক্ত বেশি
  • কর্মক্ষমতা হয় খুব কম
  • অবসাদ সষ্টি হয়
  • ঘুম কম হয়
  • খুধামন্দা এবং
  • বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হয়।

সারকথা

আশা করি আপনি আমার পুরো লিখাটি পরেছেন এবং সকালের নাস্তার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। অতএব, সকালের নাস্তা পরিহার করবেন না। সকালের নাস্তা খান,শক্তি সঞ্চয় করুন,জ্ঞান বৃ্দ্ধি করুন, পরিশেষে সুস্থ্য থাকুন।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে