করোনায় জর্জরিত বাংলাদেশ!

চীন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রথম করোনাভাইরাস কেস ধরা পড়ে ৩১ শে ডিসেম্বর, এবং চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুপাখীর বাজারের সাথে এর প্রথম সংক্রমণগুলোর সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পরে এপ্রিল, ২০২০।

করোনা মহামারিতে এই পর্যন্ত সারা বিশ্বে মারা গেছে প্রায় ৮৮৩,৭৮৫ জন এবং বাংলাদেশে মারা গেছে প্রায় ৪৪৮২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা গেছে,আত্মীয়রা তাদের স্বজন হারিয়েছে ; এটাই কিন্তু মূল কথা নয়। যারা বেঁচে আছে তারা নানা সমস্যা জর্জরিত হয়ে আছে।

করোনার প্রভাব কমলেও রয়েছে নানান সমস্যা

করোনা ভাইরাসের প্রভাব কিছুটা কমলেও জীবন যেন থমকে গেছে। অভাব, বেকারত্ব ইত্যাদি আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। স্বজন হারিয়ে মানুষ বেঁচে থাকার আদম্য চেস্টা করছে।

খাদ্য-দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি

করোনা পরিস্থিতির জন্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় ঢাকাতে মানুষের সংখ্যা কমতে থাকে বিধায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। শুধু ঢাকা নয় এহেন চিত্র সারা দেশে বিদ্যমান। পাশাপাশি যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে আমদানি কমে গিয়েছে। ফলে খাদ্য-দ্রব্যের দাম বেড়েছে।

শিক্ষাজীবনে প্রভাব

করোনা শুধু সাধারণ মানুষের জীবনে নয় ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনেও এর প্রভাব পরেছে। করোনা সংকট কমলেও খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।কথায় আছে, অলস মস্তিস্ক শয়তানের কাড়খানা। যার দরুণ শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা বাদ দিয়ে খেলাধুলাসহ  বিভিন্ন আড্ডায় মেতে আছে।

এসব বিবেচনা করে দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু শতকরা ৩০জন ছাত্র-ছাত্রী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহন করে। বাকি শতকরা ৭০জন ইচ্ছাকৃত ক্লাস করে না এমনকি এদের বাবা-মাও অনলাইন ক্লাসের প্রতি গুরুত্ব দেখায় না।

চিকিৎসাক্ষেত্রে করোনা

যদিও করোনাই একটি মারাত্মক রোগ, তবে অন্যান্য চিকিৎসার ক্ষেত্রেও করোনার বিশাল প্রভাব বিদ্যমান।করোনার ভয়ে ডাক্তাররা দূর থেকে রোগী দেখেন। আর জ্বর ঠান্ডার কথা শুনলে রোগীই দেখতে চান না। জ্বর ঠান্ডার কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি নেয় না। গর্ভবতীকেও কোনো হাসপাতাল ভর্তি নিতে চায় না। হাসপাতালের দরজায় ঘুরতে ঘুরতে মা বাচ্চা দুজনই মারা যায়। এ দায়িত্ব কোনো ডাক্তারও নেয় না।

যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তারা তাদের চিকিৎসা করাতে পারছে না।কারণ করোনার কারনে মলদ্বার বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার সমায়মত পাওয়া যাচ্ছে না।যাদের টনসিলের সমস্যা আছে তারা সমায়মত ডাক্তার না পাওয়ার কারণে টনসিলের চিকিৎসা করাতে পারছে না।

সর্বপরি, মারাত্মক রোগীগুলো সমায়মতো পরীক্ষা –নীরিক্ষা না করতে পারার কারনে মৃত্যুবরণ করে।

যানবাহনের ভাড়া বৃ্দ্ধি

করোনার কারণে অনেক যানবাহন মালিক তাদের পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তায় পরিবহনের সংকট থাকায় ভাড়া বৃ্দ্ধি পেয়েছে।আবার জনগণ রাস্তায় কম বের হওয়ার কারণেও যানবাহনের ভাড়া বৃ্দ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে সরকার পরিবহন মালিকদের ৬০% ভাড়া বেশি নিতে বলে। কিন্তু ছোট বড় সকল পরিবহন মালিকগণ তাদের ইচ্ছা খুশি মতো বেশি ভাড়া আদায় করে। যার ফলে সাধারণ মানুষ গাড়ি ভাড়া নিয়ে বিপাকে পরে।

বেকারত্ব বৃ্দ্ধি

বেকারত্ব সমস্যা বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা। কিন্তু মহামারি করোনার জন্য এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। করোনার কারণে বাইরের দেশ থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল না আসায় ও জনসমাগম কমাতে দেশের বৃহত্তর শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ ছিল।

বর্তমানে কারখানাগুলো খুললেও উৎপাদন কম থাকায় কর্মচারীদের বেতন না দিতে পারছে না। এজন্য কারখানা মালিকরা শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে। যার ফলে ব্যাপক হারে বেকারত্ব বৃ্দ্ধি পেয়েছে।

অভাব বৃ্দ্ধি

করোনার জন্য দেশের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ছয় মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঠিক সময়ে বেতন পেলেও বেসরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারিদের বেতন পুরোপুরি বন্ধ আছে। এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দামও বেশি। আবার সরকার গরিবদের সাহায্যের ব্যবস্থা করে দিলেও মধ্যবিত্তরা আছে অভাবে। না পারছে সাহায্য নিতে না পারছে অভাব মোচন করতে।

সাথে যোগ হয়েছে লাখো মানুষের বেকারত্ব। যারা ফুটপাতে থাকে তাদের কথা বর্ণনাতীত। যারা ভিক্ষা করতো, করোনার ভয়ে অনেকেই ভিক্ষুক দেখলে ভিক্ষা দেয়া তো দূরের কথা দরজাও খোলে না। সরকারি সাহায্য ও লোভী চেয়ারম্যান মেম্বারদের জন্য তাদের কাছে পৌছায়নি।

সর্বপরি বলা যায়, করনার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাসহ পারিপার্শ্বিক সকল অবস্থার অবনতি হয়েছে। যার প্রভাব পরেছে দেশের সকল স্তরের জনগনের উপর।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে