ফুলবাড়ীতে শীতের আগাম সবজি চাষ,পরির্চচায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অধিকাংশ চাষিরা রবি শস্যের উপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর এ অ লের চাষিরা অধিক লাভের আশা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে কোন জমি আর পতিত নেই বিস্তৃর্ণ কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। যেন চারিদিকে বেগুনের সবুজ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ আর মাঠ। নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। এখন মাঠ জুড়ে সবুজ রঙে সাজিয়ে তুলিছে প্রকৃতির অপরুপ রুপ।
সেই সাথে বেগুনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। বর্তমানে কোন কৃষক-কৃষানী ঘরে বসে নেই। প্রতিদিন সকাল হলেই কৃষকরা বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ সবজি ক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছে। কেউ আবার ক্ষেতের লাউ ও শাক তুলছেন। কেউবা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। অ লের কৃষকরা বেগুন চাষের পাশপাশি সারা মৌসুমে বিভিন্ন ধরণের সবজির আগাম চাষ করে বদলে দিয়েছে নিজের ভাগ্যের চাকা। চাষিরা বেগুনের পাশাপাশি রোপন করেছে লাউ ও লাউ শাক,লাল শাক,মুলা শাক ও পাট শাক। সেই সাথে শীতকালীন বাঁধা কপি ও পাতা কপির চারা রোপনেও ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। এ বছরও অধিক লাভের আশায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বেগুন চাষি মন্টু বর্মন, সিদ্দিক মিয়া ,আশিদুল ইসাম ও সুধান চন্দ্র জানান প্রতি বিঘায় বেগুন রোপন করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেগুন ক্ষেতে রোগ মুক্ত ও আবহাওয়া অনুকুলসহ বেগুনের ভাল দাম থাকলে ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করা যাবে। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। আর যে সব চাষির অন্যের জমি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকয় কন্টাক নিয়ে বেগুনসহ অন্যন্য সবজি চাষাবাদ করেছেন। তারও যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, বেগুন-লাউ ও শাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষিবিভাগ চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন ধরণের সহযোগীতা দেওয়ায় এ অ লের প্রান্তিক চাষিরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এ অ লের মাটি বেগুন-লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি খরিপ-২ মৌসুমে এ উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আগাম বেগুনের চারা রোপন করেছে। বেগুন ছাড়াও পটল ৩৫ হেক্টর ,লাউ ,লাউ ১৫ হেক্টর ও পাট শাক ও মুলা শাক ৪৫ হেক্টর জমিতে রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ উপজেলায় কৃষকরা বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে অনেকেই লাভবান হবেন।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে