টেকনাফ থানার ওসি প্রদিপের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনের মামলা


টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে আজ মঙ্গলবার একটি মামলা করেছেন স্থানীয় এক সংবাদিক। ফাইল ছবি


অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন স্থানীয় এক সংবাদিক।

বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ছয়টি মামলায় ১১ মাসের বেশি সময় কারাগারে থেকে গত ২৭ আগস্ট জামিনে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় জনতারবাণী ডটকম ও দৈনিক কক্সবাজার বাণী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল মোস্তফা খান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত-৪-এ মামলাটি  দায়ের করা হয়।

মামলায় ওসি প্রদীপ, টেকনাফ থানার বর্তমান ওসি এম এস দোহাসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। বাদীপক্ষে আজ আদালতে ছিলেন কক্সবাজার জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সিদ্দিকী, সিনিয়র আইনজীবী মো. মোস্তফা, মো. আবদুল মন্নান, ফখরুল ইসলাম গুন্দু, রেজাউল করিম রেজা, এম এম ইমরুল শরীফ প্রমুখ।

আইনজীবীরা আরো বলেন, মামলার বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক ছয়টি মামলা করা হয়েছে। তারপর তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। চারবার তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেছেন। এখন জামিনে বেরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়ার বাসিন্দা মরহুম ডা. মো. ইছহাক খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান গত বছরের ২৪ জুন তাঁর সম্পাদিত অনলাইন পোর্টাল জনতারবাণী ডটকমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এর শিরোনাম ছিল- ‘টেকনাফে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন ওসি প্রদীপ’। এই সংবাদ প্রকাশ হলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ওসি প্রদীপ। এর পরই সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় তিনটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। তারপর আরো তিনটি মামলা হয়।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার মিরপুরের বাসা থেকে সাংবাদিক ফরিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানায় নিয়ে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় ইয়াবাকারবারীরা জড়িত ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে