নীলফামারীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ হত্যা,মামলার প্রধান আসামি স্বামী তাওহীদ গ্রেফতার।



নীলফামারীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মাহবুবা হোসেন বর্ষা (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী তাওহীদ ইসলাম সিজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে যশোর জেলা শহরের রূপদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নীলফামারীর সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।


গত ২৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ। ২৪ আগস্ট সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বাবুল হোসেন বাদী হয়ে ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে নীলফামারী সদর থানায় বর্ষার স্বামী তাওহীদ ইসলাম সিজারকে প্রধান করে চার জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে বর্ষার স্বামীসহ অন্যান্য আসামিরা আত্মগোপন করেন।

মামলার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কড়লা বেচা টারী গ্রামের মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহীদ ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় জেলা সদরের পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নীলফামারী পৌরসভার পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে মাহবুবা হোসেন বর্ষার (১৯)।

বিয়ের পর থেকে ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বর্ষার উপর বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। এরই মধ্যে গৃহবধূ মাহবুবা হোসেন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গত ঈদুল আযহার পর থেকে যৌতুকের টাকার দাবিতে বর্ষার উপর নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি করে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন। এমতাবস্থায় গত ২৩ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বর্ষাকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে.এম আজমিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনা এবং মামলার পর থেকে প্রধান আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগোপন করেন। পরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি ওই গৃহবধুর স্বামী তাওহীদ ইসলাম সিজারকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।’

সিজার যশোর জেলা শহরের রূপদিয়া মহল্লায় তার চাচার বাসা ছিলেন এবং সেখান থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ওই মামলায় পলাতক থাকা বাকী তিন আসামিকেও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি  কে.এম আজমিরুজ্জামান।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে