সন্ধ্যাতিথী


লেখক : মিফতাহুল জান্নাত হেনা

“আয়েহো মেরি জিন্দেগি ম্যাই তুম বাহার বানক্যা . . . . .” টু টাং চায়ের কাপে আওয়াজ তুলতে তুলতে বিকাল ধরে গানটা গেয়ে চলেছে অপূর্বা। এমন একটা স্নিগ্ধ বিকেলে এই এক কাপ চা আর গানটাই তার একমাত্র সংগী হয়ে আছে। ভাবছে জীবনের এই পর্যায়ে এসে কে আপন বা পর হয়ে পাশে ছিল বা আছে। স্কুল জীবনের বন্ধু-বান্ধবী বলতে কেউই আজ পাশে নেই, ব্যস্ততার ভিড়ে সবার পাশে বেস্টফ্রেন্ড থাকলেও অপূর্বার পাশে বন্ধু নামক কোনো অস্তিত্ব সে দেখতে পায় না। না, অপূর্বা কাউকে দোষারোপ করছে না। অপূর্বা বিশ্বাস করে ব্যস্ততা সবারই আছে, থাকবে।এরই মাঝে কে বা কার খোঁজ নেই, যদি নেইও বিষয়টা আলাদা। তবে, অপূর্বা সবার সাথে যোগাযোগ রেখেছে।
এসব ভাবতে ভাবতে দূরের এক মসজিদ থেকে আযান ভেসে আসছে শুনে অপূর্বা ঘরে ফিরে যায়। নামায শেষ করে রাতের খাবার রান্নার কাজ শেষ করতে চুলের খোপা বেঁধেই রান্নাঘরে প্রবেশ করে। হঠাত করে ফোনটা বেজে উঠল, অপূর্বা গিয়ে দেখল অফিস কলিগ শেখড়ের কল।আগামীকাল নতুন বাইয়ার আসবে,তাদের সাথে অপূর্বাকে মিটিংয়ে বসতে হবে।
হাতের কাজ শেষে সমরেশ মজুমদারের “কালবেলা” নিয়ে বসে আনমনে পড়তে শুরু করে।ভাবতে ভাবতে কল্পনায় হারিয়ে যায়।এই জীবনে পথ চলতে চলতে হাজারো মানুষের সাথে অপূর্বার পরিচয় হয়েছে, সখ্যতা গড়ে উঠেছে।কিন্তু,বেলা শেষে সবাই যে কেন একা হয়ে পরে, রাত গুলো কেন মানুষের এতটা নির্জন আর একাকী মনে
হয় অপূর্বা বুঝতে পারে না।কেন মানুষ এত মানুষের ভিড়েও একা আর নিঃসঙ্গ অনুভব করে।এসব ভাবতে ভাবতে অপূর্বা ঘুমিয়ে পরে বইটা হাতে নিয়ে।
সময় এগিয়ে যায়, রাত গভীর হয়। অপূর্বার চোখের ঘুমও গভীর থেকে গভীর হয়।

চলবে. . . .

3 মন্তব্য

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে