দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন, ভালো থাকুন

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

আমাদের মতে, যে অনেক বেশি সম্পদের অধিকারী বা যে অনেক বেশি সুন্দর, সুখি বা যে অনেক বেশি শিক্ষিত! সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য বা শিক্ষা মানুষকে আনন্দিত করতে পারে তবে তা সাময়িক সময়ের জন্য স্থায়ী।

সকল শব্দের ঊর্ধ্বে আসে একটা শব্দ তা হলো ‘ইতিবাচক চিন্তাভাবনা’/’Positive Thinking’.  Positive thinking this two word have enough ability for keeping mind free from disturbance or violence.যে মানুষটা তার চলার সঙ্গী হিসেবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কে নির্ধারণ  করে । তার মাঝে  কখনো ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ নামক শব্দটা বিরাজ করতে পারে না। তাকে কখনো ব্যর্থতা স্পর্শ করতে পারে না।

 ডেবিট লায়কেনের  মত গবেষকদের অভিমত হলো, মানুষের আনন্দের ৫০ ভাগ নির্ভর করে তার জিন বা পরিবেশের উপর আর দশ থেকে পনেরো পার্সেন্ট তার সার্বিক পরিস্থিতির উপর আর বাকি ৪০ ভাগ নির্ভর করে তার চিন্তা ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গীর  উপর ।

***যেমন ধরুন, তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় জায়গা জুড়ে আছে বন্ধু জগত আর এই জগতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু বলা যাক। সময়ের বিস্তারে বন্ধুদের মাঝে মধুর সম্পর্ক হয়ে উঠে। আর সময়ের বিস্তারে  সেই সম্পর্কটা একটা সময় মলিন হয়ে যায় অথবা হতে পারে ঝগড়া, রাগারাগি অথবা বিচ্ছেদ । 

এই যে ‘বিচ্ছেদ’ শব্দটা যতটা সহজ বলতে তার চেয়েও অধিক কঠিন এই সম্পর্কটা গড়তে। এই ‘বিচ্ছেদ’ এর পেছনে আর একটা শব্দ  ভীষণভাবে জড়ালো তা হলো ‘অহংবোধ’ যাকে  ইংরেজিতে বলা হই ‘egoism’ এই যেমন আপনি ভাবলেন,আমি কেন ক্ষমা চাইব? বা আমি কেন ছোট  হব? বা আমার কি দোষ?

মানাগেল, আপনি অনেক আত্মমর্যাদাশীল একজন ব্যাক্তি কিন্তু আপনার এই মর্যাদার সাথে আপনার চিন্তা ভাবনার কি সাদৃশ্য আছে? কখনো কি ভেবে দেখেছেন!

আপনার চিন্তা ভাবনা আপনাকে  মর্যাদা দিচ্ছে না বরং আপনার সম্পর্ক কে detauched  করছে।আপনার সম্পর্ক কে আপনি  অবমূল্যায়ন করে আপনি নিচের কাতারে এনে দিলেন আর ‘ego’/’অহংবোধ’ কে  সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেন।একবার নিজে না হয় একটু ছোট  হয়ে দেখেন সেই ব্যাক্তির মর্যাদার কাতারে আপনি সর্বাধিক উচ্চ পদটাই পাবেন।যদি আপনাকে মর্যাদা  দিতে  ব্যার্থ হয়, তবে ভেবে নিবেন আপনার মর্যাদা বুঝার মতো যোগ্যতা তার ছিল না।তাকে সময় দিন।

শুধু মাত্র এই ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা আপনাকে সহজ রাখতে পারে,মানসিক ভাবে  দৃঢ় রাখতে পারে এবং সুখী রাখতে পারে।আর এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক হতে পারে বাবা-মা সহিত সন্তান, বাবা-মা, স্বামী- স্ত্রী ও ভাই-বোনের মাঝে। 

***আর এই ইতিবাচক চিন্তা ভাবনার প্রথম শুরু হয়,নিজস্ব আলাপ আলোচনা , নিজস্ব predict  থেকে। আপনার সকল সিদ্ধান্ত বা সকল ফলাফল এ আপনি ইতিবাচক দিকেই ভেবে দেখুন, আপনাকে  ব্যার্থতা বা হতাশা গ্রাশ করতে পারবে না,আপনি হবেন মানসিক ভাবে দৃঢ় ও শক্তিশালী একজন ব্যাক্তি।

নেতিবাচক চিন্তার অপর নাম হতাশা, যে অন্যের জন্য কোন  নেতিবাচক ভাবনা আনল আর অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ভাবনা তার মস্তিষ্কের একটি প্রয়োজনীয় সময় কেড়ে নিল এবং তাকে অসুখী করে তুলল। আমাদের ব্যাক্তিগত জীবন হতে একটা উদাহরণ নেয়া  যাক,

***যেমন একজন ছাত্রের ফলাফল খারাপ হলে বেশিরভাগই বাবা- মা এই তুলনায় করে থাকেন,অমুখ ছাত্র ভাল নাম্বার  পেয়েছে, অমুখ ছাত্র তোর থেকে কিভাবে ভালো করেছে? ইত্যাদি। আপনার ইচ্ছা টা ছিলো আপনার সন্তানের ভালো ফলাফল আর আপনার সেই ইচ্ছে পূরনের জন্য আপনি কি করলেন?

আপনার সন্তানের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি  করেছেন, হিংসা সৃষ্টি করলেন। আপনার সন্তান হইত তার চেয়েও অধিক  ভালো ফলাফল করতে পারে কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন? আপনার সন্তানের এই অর্জনের  পেছনে আছে ক্ষোভ, আছে হিংসা,আছে অপরকে ছোট দেখানোর আকাংখা।

আপনি জানেন আপনার সন্তানের সেই অর্জন এর যোগ্যতা  আছে, তাহলে আপনি কি পারতেন না তাকে উৎসাহ দিয়ে সাহায্য করতে, তার মেধাকে জাগ্রত করে তাকে অর্জনের সাফল্যে পৌছাতে সাহায্য করতে।আপনার সন্তানের এই অর্জনটা হতো  তখন তার মনুষ্যত্ব এর অর্জন, তার প্রকৃত অর্জন।    

একজন সন্তান যখন তার জীবনের শুরুতেই শিখেছে কীভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে  সাফল্য অর্জন করতে হবে তাহলে আপনি কি করে  বিশ্বাস করলেন যে আপনার সন্তান আপনার সম্পর্কে  কোন ইতিবাচক ভাবনা আনবে!

আপনার সন্তানকে আপনি সাফল্যময়ী করেননি বরং তাকে মানসিক ভাবে দুর্বল  করে দিলেন।তার জীবনের প্রতি ধাপে সে নেতিবাচক ভাবনাকে গুরুত্ব দিবে।সে জানবে না কীভাবে উত্তম চিন্তার অধিকারী হতে হয়।একাকিত্ব, ব্যার্থতা, হতাশা তাকে গ্রাশ করে নিবে।

***আপনার চিন্তা ভাবনার প্রকাশ হবে  আপনার ব্যাক্তিত্বের প্রকাশ।আপনার উত্তমভাবনার স্তর আপনাকে আপনার দৃষ্টিতে সম্মানিত করবে যা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে। যে সকল মানুষেরা সবসময় ইতিবাচক ধারণা নিয়ে থাকে বা আশাবাদী থাকে তাদের স্বাস্হ্যের  ঝুঁকি কম থাকে,হাসি খুশি থাকে এবং চাপ যুক্ত এবং জটিল পরিবেশের সাথে মোকাবেলাই সক্ষম থাকে।

***নেতিবাচক ভাবনার বা অসুখী হওয়ার একটি  কার্যকর ধাপ হল, ‘পোলারা ইজিং’আপনি আপনাকে নিয়ে সন্তুষ্ট  থাকতে পারেন না, বা আপনার সকল সাফল্যকে একপাশে রেখে আপনার ব্যার্থতা নিয়েই আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।আপনার মাঝে অধিক নিখুঁত বা  নির্ভুলহওয়ার আগ্রহ চাপে যা আপনাকে অসুখী করে তুলে।

এবং আপনার আনন্দিত হওয়ার মুহূর্ত গুলো কে আরও ধংশ করে তুলে। আমরা সকলেই ভালো থাকতে চাই, আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করলে আমরা সকলেই সুখী থাকতে পারি। আমরা আমাদের চারপাশে একটি সুন্দর পরিবেশ ও সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।

আরো পড়ুনঃ

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানান্তরিত বস্তিবাসী

লেখকঃ

আফিফা মমতাজ, ছাত্রী

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

১ টি মন্তব্য

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে