সন্ধ্যাতিথী


লেখক :– মিফতাহুল জান্নাত হেনা
২য় পর্ব
ঢাকার রাস্তার জ্যামে রীতিমত বিরক্ত ইমন।প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আর আসার সময়ের এই জ্যাম সবচেয়ে বিরক্তিকর। এদিকে “ইয়ং জু” প্রতিষ্ঠানের নতুন বাইয়ারদের নিয়ে “এইচএসসিএল লিমিটেড” এর সাথে মিটিং। এইচএসসিএল এর মার্চেন্ডাইজার অপূর্বাকে ইমনের অসাধারন লাগে। এত স্মার্টভাবে চলাফেরা করে,শাড়ির কুচি কোনোদিন এদিক থেকে ওদিক হয়নি। খুবই বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী অপুর্বা। একবার দেখেই বা কথা বলেই মনে ধরে যাওয়ার মত একজন মানুষ। ওর জন্য আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে চেয়েছিল ইমন। কিন্তু, শাপলা চত্বরের এই জ্যাম ঠেলে ঠিক সমইয়ে পৌছাতে পারলেই যেন বাঁচে। ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়তেই ড্রাইভার সজোরে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যায় অনেকটা পথ। তন্মধ্যে ইমনের মোবাইলে ম্যাসেজ আসে ইয়ং জু এর বাইয়ারের, “We are on the way”. ইমন বুঝতে পারে যেকোনভাবেই তাকে তাদের আগে পৌছাতে হবে।
“Welcome to HSCL LIMITED. Good morning everyone.” বলে অপূর্বা মিটিং শুরু করে। আজ কেন যেন অপূর্বাকে মিষ্টি রঙের শাড়িতে অদ্ভুত মায়া জড়ানো মনে হচ্ছে ইমনের। শেখড়ের ডাকে সম্বিত ফিরে পায় ইমন। টানা ২.৩০ ঘন্টার মিটিং শেষে ইমন যখন একটু আলাদা কথা বলবে বলে অপূর্বার কাছে গেল, অপুর্বা একটা ক্লান্তি ভরা হাসি দিয়ে বলল, “We will talk after lunch. Please, take rest”. অপূর্বার এমন ভদ্রভাবে না বলাতে ইমনের মনে হলো সে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে।
শেখড় অপূর্বার কাছে গিয়ে জানিয়ে দেয় যেন ফাইনাল ফাইল গুলো লাঞ্চের আগে প্রস্তুত করে ডেস্কে পৌছে দেয়।ক্লান্তি ভরা দৃষ্টিতে শেখড়ের যাওয়ার পথের দিকে কিছুটা সময় অপলক তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাজে ডুব দেয় অপূর্বা।
ইয়ং জু প্রতিষ্ঠানের সাথে মিটিংটা ভালভাবেই শেষ হয়। অপূর্বার পারফরমেন্সে শেখড় বেশ খুশি আজ, যদিও বরাবরই অপূর্বা বেশ ভালভাবেই সব মিটিং শেষ করে কিন্তু আজ শেখড় বেশ খুশি। এত বড় একটা অর্ডার পাওয়াই শেখড় অপূর্বাকে রাতে ডিনারের অফার করে, এদিকে রাত ৮টা বাজে অপূর্বা এখনও ডেস্কে কাজ করছে।৮ঃ৩০টায় অপূর্বার কাজ শেষ হলে শেখড়ের সাথে ডিনারের জন্য রওনা হলো।অপূর্বা খুবই মিতভাষী। প্রয়োজনের বেশি একটা বাক্য ব্যয় করতে রাজি না। শেখড় অনেক চেষ্টা করেও কাজের কথার বাইরে কোনো কথা বলতে পারল না। রাত ১০টার দিকে রেস্তোরা থেকে বেরিয়ে শেখড় অপূর্বাকে পৌছে দিতে চাইলে অপূর্বা “No, thanks” বলে একটা সিএনজি টেক্সিতে উঠে রওনা দেয়।
Self dependent মেয়ে কেমন হতে পারে তারই একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যেন এই অপূর্বা। শেখড় একদৃষ্টিতে ওর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বাসার দিকে রওনা দেয়।

চলবে….

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে