পাকিস্তানে সেনাবাহিনীকে অবমাননার অভিযোগে সাংবাদিক-গ্রেপ্তার



গ্রেপ্তার সাংবাদিক বিলাল ফারুকি বরাবরই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, সরকার এবং ধর্মীয় চরমপন্থি দলের সমালোচনা করে এসেছেন।

শুক্রবার পাকিস্তান পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছাড়ানোর অভিযোগে বিলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে পড়া পুলিশের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘‘(সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে) নিজের পোস্টের দ্বারা বিলাল ফারুকি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অসম্মান করেছেন এবং নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থে ওই সব পোস্টে দেশবিরোধী নানা কথা লেখা হয়েছে।”

বিলালের পোস্ট ধার্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উস্কে দিতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে বলা হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সম্প্রতি তার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। কিন্তু দেশটিতে গত কয়েকমাসে সরকার ও দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সামলোচনা করায় কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর আরেক সমালোচক সাংবাদিক মতিউল্লাহ জানকে গত জুলাইয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধরে নিয়ে যায়। তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং সমালোচনা শুরু করলে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সাংবাদিক মতিউল্লাহর অপহরণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বিবিসি জানায়, সাংবাদিক বিলালকে পুলিশ দেশটির ‘সাইবার অপরাধ আইনে’ গ্রেপ্তার করেছে। দোষীসাব্যস্ত হলে তার জরিমান এবং দীর্ঘমেয়াদে কারাদণ্ড হতে পারে।

পাকিস্তানে অনলাইনে ধর্ম, দেশ, আদালত এবং সেনাবাহিনীকে নিয়ে সমালোচনা করলে গ্রেপ্তার হতে হয় এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

এ সপ্তাহের শুরুতেও ইসলামাবাদে প্রাক্তন এক সাংবাদিক কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরেছেন। কারা তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় নিয়ে গিয়েছিল সে বিষয়ে ওই সাংবাদিক মুখে বন্ধ করে আছেন।

ওই সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়ার পর এক টুইটে বিলাল লিখেছিলেন, ‘‘এই দেশে শক্তিশালীরা আইনের ঊর্ধ্বে।”

বিলালের মত গত বছর আরেক সাংবাদিক শাহজেব জিলানি প্রায় একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আদালত ওই মামলা খারিজ করে দেয়।

বিবিসি জানায়, গত বছর পাকিস্তানে খবর প্রকাশের কারণে অন্তত চারজন সাংবাদিক ও ব্লগারকে খুন হতে হয়েছে।

দেশটিতে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা নৃশংসতা ও নিপীড়ন নিয়ে এ সপ্তাহেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয় হাই কমিশনার।

ইউএনএইচসিআর-র এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘আমরা সরাসরি পাকিস্তান সরকারের কাছে এ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছি এবং সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী যাদের প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে থাকতে হয় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করছি।”

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে