দুবাইয়ে ড্যান্সবারের আড়ালে নারীপাচারের অভিযোগে ;নৃত্যশিল্পী ইভান কারাগারে

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। ফাইল ছবি


দুবাইয়ে ড্যান্সবারের আড়ালে নারীপাচারের অভিযোগে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিকেতনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসিন আরা এ আদেশ দেন। লালবাগ থানার মানবপাচার আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। অন্যদিকে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া তার জামিন শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন।

এ ব্যাপারে সিআইডির অ্যাডিশনাল ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, দুবাইয়ে ড্যান্সবারের আড়ালে নারীপাচারের অভিযোগে সম্প্রতি আজম খানসহ ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে উঠে আসে কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের নাম। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতার চক্রটি দুবাইয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে নৃত্যশিল্পী নিয়ে যেতেন। পরে এদের মধ্য থেকে দুই-একজন করে রেখে আসতেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কোরিওগ্রাভার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। এ বিষয়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তে এবং পূর্বে গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দিতে কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।

গত মাসে দুবাই পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে আজম খানসহ নারী পাচারকারীচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চক্রটি মূলত নৃত্যকেন্দ্রীক। কয়েকজন নৃত্যসংগঠন ও শিল্পী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন নাচের ক্লাব বা সংগঠন থেকে মেয়েদের সংগ্রহ করে কাজ দেয়ার নামে দুবাই পাঠান। পরে দুবাইয়ের হোটেল ও ড্যান্সবারে তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করতেন। চক্রটির বাংলাদেশের মূলহোতা আজমসহ তার দুই সহযোগী ময়না ও মো. আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ডকে গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, প্রথমে হোটেলে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২০-২২ বছর বয়সী তরুণীদের প্রলুব্ধ করা হতো। বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য বেতন হিসেবে ২০/৩০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করা হতো। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ে যাওয়া আসা-বাবদ সব খরচও দিত দালালচক্র। কিন্তু দুবাই যাওয়ার পর তাদের হোটেলে জিম্মি করা হয়, জোরপূর্বক দেহ ব্যবসাসহ ড্যান্সক্লাবে নাচতে বাধ্য করা হয়। গত ৮ বছরে এভাবে প্রলুব্ধ করে চাকরির নামে বাংলাদেশের শতাধিক তরুণী-কিশোরীকে দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে