অনুভূতির সাথে

লেখকঃ আফিফা মমতাজ, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

অনুভূতির খেয়ালিপনা

মানুষ মানেই অনুভূতি আর এই অনুভুতির সঞ্চার হয় মানুষের মনের ভাবনা থেকে। অনুভুতি হলো মানুষের মনের লুকায়িত ভাবনার সৌন্দর্য প্রকাশের একটি ছোঁয়া। মানুষের মনের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হয় এই অনুভূতি থেকে মানুষ মাত্রই ভালবাসার কাঙ্গাল । ভালোবাসার পাওয়ার অনুভূতি যতটা গভীর তার চেয়েও অধিক গভীর হয় ভালোবাসা হারানোর।


অপ্রকাশ্য ভালোবাসা অক্ষত ভালোবাসা। ভালোবাসার অনুভূতি ততদিন সুন্দর যত দিন তা স্পর্শে আসেনা রঙ্গিন উড়ন্ত পাখির সৌন্দর্য বিলীন হয় যদি চার দেয়ালে বন্দি করা হয় ভালোবাসা ও ঠিক তেমনই। ভালোবাসাকে ছড়িয়ে রাখা উচিত,তখন সেই ভালবাসার অনুভূতি যা অনুভব করতে পারা যায়। অনুভূতি প্রকাশে যতটা কষ্ট হয় সেই অনুভূতিটা কদর ততটা বৃদ্ধি পায়।

দুঃখ কষ্ট আনন্দগুলো নিজের মাঝে রাখার চেষ্টা করা উচিত, নিজের সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত, আর সেই ভাগ অন্য কাউকে দেওয়া উচিত নয়, পরনির্ভরশীলতা থেকে রক্ষা পাবে। অধিক ভালোবাসায় মানুষটাও একদিন ক্লান্ত হয়ে যায় কারণ এটা ভালোবাসা। তাই এই অনুভুতির সমস্ত অধিকার খোঁজার চেষ্টা করো না যদিও তুমি প্রার্থী ছিল সেই অধিকারে তাও জোর খাটাতে যেও না, ট্যাগ এর মাঝেই প্রকৃত স্বাচ্ছন্দ পাবে।

আর সেই সময় যেটুকু অনুভূতি তোমার জন্য বরাদ্দ থাকবে, সেটুকু অনুভূতি তুমি সমস্ত পূর্ণতার সহিত পাবে।
এক কাপ চায়ের সাথে অদ্ভুত বিকেলের সুন্দর্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যে যে প্রকৃত তৃপ্তি তুমি পাবে তা ফাইভস্টার হোটেলের লম্বা সময়ের ডিনারে পাবেনা।

তুমি নির্দোষ নিরপরাধ শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির জন্য যার সমস্ত অনুভূতি মাঝে একান্ত তুমিই আছো। একসাথে রাতের আধারে চাঁদ দেখার অনুভূতি কোথাও পাওয়া যায় না আর সেই অন্ধকারের নীরবতার হাস্যোজ্জ্বল প্রশান্তি তোমার মনের সকল ব্যথা দূর করে দিবে।


অনেকের ধারণা, একে অপরের দূরত্বে থাকার মাঝে সম্পর্কে অনুভূতি পাওয়া যায় না, আসলে বাস্তব অর্থে দূরত্ব সম্পর্ককে আরো নিকটে এনে দে। সেই দূরত্বের মাঝে সে তোমাকে একান্তই খুজবে, তোমার সাথে কাটানো সময়ের মমতা কতটা স্পর্শ কাতর সে তা বুঝতে পারবে। তোমাকে চাওয়ার আগ্রহ তার অনুভূতির অস্থিরতা প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে বাড়াতে থাকবে।

ভালোবাসাটা হয় নিঃস্বার্থ , স্বার্থ যখন চেপে বসে তখন তা আর ভালোবাসা থাকে না তা হয়ে যায় দেনা-পাওনার এক আলোড়িত সম্পর্ক যে সম্পর্কের মাঝে পবিত্রতা থাকে না। বিবাহিত জীবনের ভালোবাসা যত্ন কমে যায় কারণ স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনুভূতির চেয়েও স্বার্থ চেপে বসে। একে অপরের উপর অধিকার খাটানোর মনোভাবে প্রবণতা বেড়ে যাই।

তখন ভেবে দেখা হয়না এই দুইজন মানুষ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাদের দুজনের জীবনে। নিজের মাঝে নিজের ব্যথা লুকানো সহ্য ক্ষমতা খুব কম মানুষের কাছেই থাকে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্বচক্ষে নিজেকে অনুধাবন করার ক্ষমতা খুব কম মানুষের কাছেই থাকে। নিজ হাতে নিজের চোখের কোনে জল বুঝতে পারার মাঝে আছে সাহসিকতা,আছে দাম্ভিকতা।


তোমার ছোট ছোট আনন্দে বাসিন্দা একমাত্র তাকেই করো যার মাঝে স্বার্থের কোন ছোঁয়া নেই শুধুমাত্র আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার একরাশ অনুভূতি।মিশ্র কাচের চুড়ির শব্দের মাঝে যে তোমাকে খুঁজে পায় মনে রেখো তারা সকল ভাবনার অগোচরে আছে শুধু একটাই মেয়ে সেটা তুমি। তাঁর বিশালতার মাঝে একটুকু টাই পেয়েছো শুধু তুমি।

তার সেই অনুভূতির অংশীদার হও তাকে ভালবেসে। তোমার মাঝে সে যে গভীর মায়ার পূর্ণতা পেয়েছে তা অন্য কিছুতে নেই। হুমায়ুন আহমেদের সেই কথাটি বেশ অর্থবহ ,’মায়াবতীর কোন পুরুষবাচক শব্দ নেই।‘

“তোমার হাসির পূর্ণতা তার কাছে নিছক একান্ত
যে তোমার মাঝে নিজেকে করেছে সর্বশান্ত;
তোমার মনের আনন্দের সকল উজ্জীবতা
তার মাঝে এনে দিয়েছে গভীর সজীবতা!”

তোমার ভালোবাসার মানুষ তোমার কাছে সর্বদামী। আর সেই মানুষটার অনুভূতি অক্ষত রাখতে চাও তবে ত্যাগের মনোভাব রাখো। অন্তরের বিশালতার মাঝে আছে অনুভূতির অলৌকিক সৌন্দর্য। যে মানুষের মনের গভীরতা যতো বেশি সে মানুষটা ততই একা তার ভাবনার ঘরে আর এই একাকিত্বের অবসানের জন্য অনবহিত অনুভূতি নয় বরং যত্নশীল অনুভূতি প্রয়োজন। সেই অনুভূতিটাই দামি যেই অনুভূতির চাহিদার সংখ্যক কম।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে