রত্নাই নদীর উপর ছোট বেইলী ব্রীজটির কারণে ফুলবাড়ীর শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর সুফল পাচ্ছে না ব্যবসায়িরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকায় নির্মিত শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটির উদ্ধোধনের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও কাংখিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী এবং ভুরুঙ্গামরী উপজেলা ব্যবসা-বানিজ্যে অর্থনৈতি সফলতার দ্বার উস্মোচন করতে পারেনি এই সেতুটি।
উদ্ধোধনের দুই বছর তিন মাস এগারোদিন পেড়িয়ে গেলেও শেখ হাসিনা সেতুটির সার্বিক ব্যবহারের বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু থেকে ১ কিলোমিটার দুরে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রতœাই নদীর উপর এই বেইলী ব্রীজটি। ছোট এই বেইলী ব্রীজটির ভগ্নদশা হওয়ায় এটির উপর দিয়ে হালকা যানবাহন ছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য বড় ধরনের যানবাহন ও ফুলবাড়ী থেকে ঢাকাগামী কোন নাইটকোচ চলাচল করতে পারে না। সে কারনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা ও কুড়িগ্রামের জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনা ধরলা সেতু ব্যবহার করে মালামাল পরিবহন করতে পারছেন না। তাই বৈষয়িকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন এই চার উপজেলার ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা।


শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর সার্বিক ব্যবহার এবং সুফলতা নিশ্চিত করতে কুলাঘাটে রতœাই নদীর উপর নতুন একটি সেতু নির্মানের উদ্দ্যোগ নেই সরকার। গত দুই বছব তিন মাস ১১ দিন থেকে শুধু প্রতিশ্রæতি দিয়ে আসছে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিন্তু ব্যস্তবে নেই কোন ফলপ্রসু পদক্ষেপ নেই।
২০১৮ সালের ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। সেদিন থেকে সাধারণ মানুষ চলাচল শুরু করেন এবং সাথে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু পন্য পরিবহনের জন্য ভারী যানবাহন ও ঢাকাগামী নাইট কোচসহ বড় ধরণের যাত্রীবাহী কোন যানবাহন আজও চলাচল করতে পারছে না । স্থানীয সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র অধীন ৯৫০-মিটার দের্ঘ্য ও ৯.৮ মিটার প্রস্থের এই শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি নির্মানে ব্যয় করা হয়েছে ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।


মের্সাস মনোয়ার ট্রেডাসের মালিক হেলালুল ইসলাম ও জেএম পেপার হাউর্জের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাটে রতœাই নদীর উপর অনেক পুরাতন ও জরাজির্ণ বেইলী ব্রীজের কারনে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর সুফল থেকে আমরা ব্যবসায়ীরা বি ত । ‘আমরা ঢাকা,রংপুর ও লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে পণ্য আনা নেওয়া করতে পারছি না সে কারনে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি আমাদের আশা পুরণ করছে না। আমরা ব্যবসায়িরা এখনো অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়ছি। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন দ্রæত সময়ে লালমনিরহাট সদর উজেলার বেইলী ব্রীজটি নতুন করে নির্মান করার দাবী জানাচ্ছি।


মের্সাস রুমা ষ্টীল মালিক নুরেজ্জামান ও সাদ্দিক ইলেকট্রনিক্সের মালিক মাইদুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ধরলা সেতু উদ্ধোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবহার করতে না পারায় ব্যবসায়িরা পণ্য আনা নেওয়ায় অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করছেন। দ্রæত কুলাঘাটে রতœাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মান করে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুকে শতভাগ সুফলভোগী সেতুতে পরিনত করার দাবী জানিয়েছেন।
বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা সরকার জানান, কুলাঘাটে রতœাই বেইলী ব্রীজটির কারণে আমরা ফুলবাড়ীবাসীসহ চার উপজেলার ব্যবসায়ীরা সুফল পাচ্ছি না। ফুরবাড়ীবাসীর পক্ষে বারবার লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগকে চাপ দিয়ে আসছি কিন্তু কোন কাজে আসছে না। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি যেন দ্রæত গতিতে লালমনিরহাট সদরের কুলাহাট রতœাই নদীর উপর নতুন একটি সেতু নির্মান করে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুকে সার্বিক ব্যবহার উপয়োগী করলে এই চার উপজেলার ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটবে। লাভবান হবে এ অ লের সামাজিক অর্থনীতি।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, কুলাঘাটে রতœাই নদীর উপর ১৩৮-মিটার দৈর্ঘ্য একটি সেতু নির্মানের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট প্রোফর্মা) সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এ সেতু নির্মানের ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। কবে নাগাত সিদ্ধান্ত আসবে যাবে আমরা জানি না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সেতুর ডিপিপি তাড়াতাড়ি অনুমোদন পায় ।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, শেখ হাসিনা ধরলা সেতুকে সার্বিক ব্যবহার উপয়োগী করে তোলা এবং যাতে ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটে এজন্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দুই জেলার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হবে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে