ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুলসুম, সংসারের অভাব দূর করতে পাড়ি জমান সৌদিতে ফিরলেন লাশ হয়ে


সংসারের অভাব দূর করতে চাকরির প্রত্যাশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কিশোরী উম্মে কুলসুম (১৪)। কিন্তু, চাকরি করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ দূরে থাক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই কিশোরী। স্বপ্ন যাত্রা ধূলিস্মাৎ হওয়া এই কিশোরী অবশেষে দেশের মাটিতে ফিরেছে লাশ হয়ে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছে।

এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টায় তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। মৃত কুলসুম নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১৭ মাস আগে মেসার্স এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আর এল নং-১১৬৬) মাধ্যমে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে যোগদানের পর থেকেই কুলসুমের উপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে মালিক পক্ষ।

নির্যাতনের কারণে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্যে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন তার বাবা। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত চার মাস আগে সৌদি আরবে গৃহকর্তা ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙ্গে দেয়। এর কিছুদিন পর তার একটি চোখ নষ্ট করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেখানকার কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ৯ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কুলসুম।

এ ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে কিশোরীর বাবা মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে একটি লিখিত আবেদন দেন।

আজ সোমবার কুলসুমের বড়বোন উম্মে হাবিবা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার বোন সৌদি আরব গিয়েছিলো। তবে সেখানকার মানুষের অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার বোন লাশ হয়ে দেশে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা এ ঘটনার জন্য বিচার চাই। কেন এমনভাবে বিদেশের মাটিতে গিয়ে অকালে মরতে হবে? বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

নিহতের মা নাসিমা বেগম বলেন, মেয়ে মারা যাওয়ার পর একাধিকবার প্রতিকার চেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনো পাত্তা দেননি। তিনি তার কন্যা কুলসুম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (ওসি) এটিএম আরিচুল হক জানান, দুই দেশের বিষয় হওয়ায় নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশনা পাইনি। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

#অনলাইন ডেস্ক,

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে