নাগেশ্বরীতে আশ্বিনী বন্যায় আতঙ্ক তলিয়ে গেছে ১০২৫ হেক্টর জমির ফসল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে করোনা, পর পর তিন দফা বন্যা পরবর্তী আশ্বিনী বন্যায় আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে। ধকল সামলাতে নিরন্তর ভাবনায় পড়েছেন তারা।
মৌসুমী জলবায়ুর সক্রিয়তায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় প্রতিদিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়ে আসছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত থেকে তা মুষলধারে ঝরতে থাকে। বৃদ্ধি পায় উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ফুলকমর, গঙ্গাধর, শংকোষসহ সকল নদ-নদীর পানি। দু’কুল ছাপিয়ে ঢুকে পরে লোকালয়ে। ১৮ সেপ্টেম্বর বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। পানি বেড়েছে আরো। এতে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার কিছু এলাকায় প্লাবিত হয়েছে নিন্মঞ্চল। তলিয়ে গেছে ৮৬০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি, ২৫ হেক্টর জমির মাসকালাই ও ১০ হেক্টর জমির চিনাবাদাম ক্ষেত। পানি উঠেছে অনেক রাস্তা-ঘাটে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার শুক্রবার দুপুরে জানান, আগামী ২-৩দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এ এলাকার অর্থনীতি। তাই অসময়ের এ বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক। এমনিতেই আগের তিন দফা বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে তাদের রোপা আমন বীজতলা। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে গেছে চাষাবাদ। তারপর বেশি দামে চারা কিনে লাগাতে হয়েছে জমিতে। পলিযুক্ত মাটিতে সবেমাত্র সেগুলো সতেজ হয়ে উঠেছে। করোনা, বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা। ঠিক এ সময়ে চতুর্থ দফা বন্যায় ফের তলিয়ে গেল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায় জানান, অসময়ের এ বন্যায় যে ফসল তলিয়ে গেছে দ্রæত পানি নেমে গেলে হয়তো এর ক্ষতি কম হবে।
পৌরসভার তেলীপাড়ার জিয়াউর রহমান (৪০), ভৈসতুলি পাড় এলাকার আমজাদ হোসেন (৫৫), নুর ইসলাম (৪৪), বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নামদানীটারী গ্রামের হোসেন আলী (৫০), আশরাফুল আলম (৪৫), কালীগঞ্জের মন্নেয়ারপাড় গ্রামের খলিলুর রহমান (৪৩), আবেদ আলী (৬৬), নিজাম উদ্দিন (৬২)সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন জানান, বছরের শুরু থেকে নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত আমরা। করোনার মধ্যে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তারপরেও শেষ ভরসার রোপা আমন ক্ষেতও চতুর্থ দফা বন্যায় তলিয়ে গেল। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা আমাদের জন্য দুরহ হয়ে যাবে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে