নদী গর্ভে বিলীন: কুড়িগ্রামের ১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :-কুড়িগ্রাম চারদফা বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরোও বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গেল জুন থেকে চলতি মাস পর্যন্ত দফায় দফায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কমার ফলে তিব্র হয়েছে ভাঙন। এতে জেলার দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রের প্রায় ৬৯টি পয়েন্টে তিব্র ভাঙগন চলমান রয়েছে। এতে শুধু বিদ্যালয় নয় বিলিন হয়েছে শতশত ঘরবাড়ি, মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, হাজার হেক্টর আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। শত শত পরিবার বসত ভিটা হাড়িয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে নদী ভাঙগনে বাস্তুহারা মানুষ অপর দিকে বিদ্যালয় বিলিন হওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভাঙগন এলাকার অভিভাবকমহল।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চরকু পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌমারী উপজেলার বলদমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফলুয়ারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলমারী উপজেলার উত্তর খাউরিয়ার চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্তোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দীঘলকান্দি সরকারী বিদ্যালয়, উলিপুর উপজেলার জুয়ান সতরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াদাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খারিজা লাটশালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর বজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙগনের হুমকির মুখে রয়েছে সদরের নন্দ দুলালের ভিটা, ফুলবাড়ি উপজেলার মেখলির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার ৯টি উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে এসব অ লে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বাল্যবিয়ের হার বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে অভিমত সচেতন মহলের।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে জেলার মোট ১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেছে। এর মধ্যে রৌমারী উপজেলায় ২টি প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিলিন হওয়া বিদ্যালয় গুলোর সীমানা এলাকার মধেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে