জলবায়ু অভিবাসী দরিদ্র প্রবীণ বস্তীবাসি ও বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রভাব

জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে প্রত্যাশিত আয়ু বাড়ার কারণে যা তুলনামূলক বেশি ধনী ও উন্নত দেশগুলির মধ্যে দেখা যায়। কারণ বিশ্বের বর্তমানে প্রত্যাশিত আয়ু ৭২ দশমিক ৬ বছর যা বাংলাদেশের সমান এবং যা আবার গরিব দেশগুলোর মধ্যে ৬৫ বছর। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বিশ্বে বয়স্ক (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে) মানুষের সংখ্যা।

বর্তমানে প্রতি ১১ জনে একজন বয়স্ক লোক পাওয়া যায়, যা ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি ছয়জনে একজনে পরিণত হবে। বর্তমানে ৮০ বছরের উপরে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা যা আছে তা ২০৫০ সাল নাগাদ তিনগুণ বেড়ে যাবে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় নিম্ন প্রজনন হারকেই।

বিংশ শতাব্দীতে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনের কারন হিসেবে ব্যাপক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা আর সচেতনতাকে চিহ্নিত করা হয়। যার ফলে মৃত্যু হার কমে বিশ্ববাজারে ক্রমে বেড়েই চলছে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসেবে, বাংলাদেশে বতর্মানে মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ছয় মাস। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবসর গ্রহনের গড় বয়স, বিদ্যমান আইন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে ৬০ বছর বয়সকে বার্ধক্যর পরিসংখ্যান সম্মত বাস্তব সীমা বলে মনে করা যায় এবং উন্নত অঞ্চলের জন্য ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের প্রবীণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে প্রবীণদের দেখাশোনার ব্যপারে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রত্যাশা থাকে যে পরিবার ও সমাজ তাদের প্রবীণ সদস্যদের যত্ন নিবে। কিন্তু দ্রুত অতিসামাজিক ও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন, ব্যাপক দারিদ্র, সহিষ্ণু, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, পশ্চিমা সংস্কৃতিক প্রভাব এবং অন্যান্য কারনে ঐতিহ্যববাহী যৌথ পারিবারিক ও সামাজিক দেখাশোনার পদ্ধতি ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে প্রবীণ নারী জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দূর্যোগ ও স্থানান্তরে সব থেকে বেশি সমস্যার শিকার।

ধারনা করা হয়, প্রতিবছর ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নুতুন ভাবে স্থানান্তরিত হয়। যার মধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি লোক বস্তিতে জীবন অতিবাহিত করে। বন্যা, ক্ষরা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তন দূর্যোগ হেতু স্থানান্তরিত হত দরিদ্র মানুষ তুলনামূক উন্নত জীবন যাপনের আশায় বস্তিতে বসবাস শুরু করে।

বস্তিবাসী ও ভাসমান লোক গণনায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৪ সালের শুমারি অনুযায়ী সারাদেশে বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৫টি। বস্তিতে বসবাস মানুষের সংখ্যা ২২ লাখ ৩২ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার পুরুষ, ১০ লাখ ৮৬ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৮৫২ জন হিজড়া।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০ লাখ ৬২ হাজার ২৮৪ জন বস্তিতে বাস করে। ঢাকায় বস্তির সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৪টি। তবে এর মধ্যে ঠিক কতজন জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে সেই পরিসংখ্যান কোথায় উঠে আসেনি।

দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েই যে মানুষ স্থানান্তরে পথ বেছে নিচ্ছে কিংবা সহায়সম্বল ভিটামাটি ছেড়ে চলে আসছে তা কিন্ত নয় ভেতরের চিত্রটায় দেখা যায় যে, তারা তাদের এলাকাতেই যথাসম্ভব চেষ্টা করে বেঁচে থাকার জন্য পক্ষান্তরে ঋন গ্রহন করতেই থাকে। একটা পর্যায়ে সেই ঋন এতটাই বাড়ে যা পরিশোধ করা তাদের সাধ্যের বাইরে চলে আসে। এমতোবস্থায় তাদের স্থানান্তর বাদে অন্য কোন উপায় অবশিষ্ট থাকে না।

শতকরা ৬০ ভাগ জলবায়ু পরবর্তনে স্থানান্তরিত দরিদ্র প্রবীণ তাদের পরিবারের সাথেই স্থানান্তরিত হয়ে আসে। অনেক সময় তারা তাদের কোন আত্নীয় বা সন্তানের সাথে চলে আসে।

এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে প্রবীণদের দেখাশোনার ব্যপারে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রত্যাশা থাকে যে পরিবার ও সমাজ তাদের প্রবীণ সদস্যদের যত্ন নিবে। কিন্তু দ্রুত অতিসামাজিক ও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন, ব্যাপক দারিদ্র, সহিষ্ণু, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, পশ্চিমা সংস্কৃতিক প্রভাব এবং অন্যান্য কারনে ঐতিহ্যববাহী যৌথ পারিবারিক ও সামাজিক দেখাশোনার পদ্ধতি ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে প্রবীণ নারী জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দূর্যোগ ও স্থানান্তরে সব থেকে বেশি সমস্যার শিকার।

প্রবীণদের দুঃখ-কষ্ট দেখার জন্য বাংলাদেশে সম্ভবত কোন মানুষকেই খুব বেশিদূর যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঢাকা শহরে অভিজাত এলাকার এলাকাগুলির আশেপাশেই রয়েছে বস্তি। বস্তিগুলোতে সরু গলি আর ছোট ছোট ঘর। এখানে একটি ছোট্ট ঘরে ৪-৫ জন কখনো বা ৬ থেকে ৮ জন লোক এক সঙ্গে ঘুমায়। তাদের আসা যাওয়ার পথে এক জনের সাথে আরেকজনের শরীর লেগে যায়। একদিকে ঘিঞ্জি বসবাসের স্থান ঠিক তেমনি অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা। বেশিরভাগ বস্তিতে ১০ থেকে ১২ পরিবারের জন্য একটি মাত্র বাথরুম এবং দুটি ল্যাট্রিন রয়েছে। সেই সাথে বস্তি এলাকা গুলোতে পানির সরবরাহও অপর্যাপ্ত। এখানে প্রবীণদের জন্য আলাদা করে কোন ব্যবস্থা চোখেই পড়েনা।

শহরে দরিদ্র প্রবীণ চরম দারিদ্র ও স্বাস্থ্যহীনতায় আক্রান্ত এবং মৌলিক মানবিক সমস্যার শিকার হচ্ছে। এ সবের মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান, পুষ্ঠিহীনতা সেবা ও চিকিৎসা সুবিধার অভাব, একাকিত্ব ও অবহেলা, বঞ্চণা এবং আর্তসামাজিক নিরাপত্তাহীনতা।

ইতি মধ্যেই প্রমান হয়ে গিয়েছে, বস্তি এলাকায় বসবাসরত এই সকল দরিদ্র জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের মাঝেও পুষ্টিহীনতা, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ যেমন সচারচর সবার মধ্যে লেগেই থাকে তেমনি ভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলত্ব বা ডায়াবেটিসের মতো রোগগুলো যে তাদের মধ্যে নেই তা বলা যাবে না। বরং এসব রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগের সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করার প্রতি সচেতন মনভাব নেই বা গ্রহনে অনিহায় বা দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর এসব রোগকে অবহেলা করতেই বেশি দেখা যায়।

দেশ ও অঞ্চল ভেদে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বয়সভেদে ভিন্নতা দেখা গেলেও এক্ষেত্রে প্রবীণ জনগোষ্ঠীই অধিকতর মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক উপাত্তেও লক্ষ্যণীয়।

প্রবীন ব্যক্তিদের মাঝে রিউমেটক ফিভার, মাথাব্যাথ্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও বাত জনিত রোগের আক্রান্ত সংখ্যা বেশি আর এই মানুষগুলি করোনাভাইরাসে অধিকতর মৃত্যুঝুঁকি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম লক্ষনীয় যে তা নয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ ও মধ্য-বয়সী হলেও প্রবীণরাই অধিকতর মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে দেশের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যস্থাপনা জোরদার করনের মাধ্যমে।

দরিদ্র পরিবারভুক্ত প্রবীণরা নিদারূন নিরুপায়। দারিদ্র্য ও নির্ভরশীলতার অন্যতম শিকার হচ্ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠী। অনেক পরিবারেই সন্তানরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়ে থাকে, ফলে চিকিৎসাসহ বহু মৌলিক সেবা থেকে প্রবীণরা বঞ্চিত হন।

অধিকাংশ প্রবীণ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে উপেক্ষিত, অবহেলা, বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদির শিকার হয়ে সমাজের বাড়তি বোঝা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণেরই সামর্থ্য নেই বাংলাদেশে প্রবীণদের ৫৮ শতাংশের। সেখানে তাদের বৃদ্ধ বয়সে অন্য সেবা পাওয়াটা যে কতটা কঠিন তা বলাই বাহুল্য।

বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মহামারী জনসংখ্যার বয়স, লিঙ্গ বা জেন্ডার ক্ষত্র বিশেষে ভিন্নতা লক্ষ করা গেলেও। বিপুল সংখ্যক দরিদ্র প্রবীণের মধ্যে খুব কম শতাংশই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করে থাকে। আর মাত্র ৫ শতাংশ প্রবীণ নারী স্থানান্তর হয়েও সরকারী ভাবে বয়স্কভাতার সুবিধায় আওয়াতাভুক্ত। তবে এই অর্থ প্রাপ্তির চিত্রও খুব বেশী সুবিধার নয়। মাত্র ৫০০ টাকা করে প্রতিমাসে তাদের জন্য বরাদ্দ হলেও তিনমাস অন্তর ১৫০০ টাকা করে তারা এই বয়স্ক ভাতা পেয়ে থাকেন।

জলবায়ু স্থানান্তরিত এই সকল দরিদ্র প্রবীণদের বেশিরভাগেরই নিজের সঞ্চয় বা সম্পত্তিও থাকে না, যে কারনে বাধ্য হয়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চাহিদা বাড়লেও সাধারণত প্রবীণের আর্থিক সক্ষমতা কমে যায় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের তুলনায় তার চাহিদা অগ্রাধিকার পায় না।

বেশিভাগ প্রবীণ নারী বা পুরুষের তেমন কোন নিয়মিত আয়ের উৎস নেই। করোনা পরিস্থিতির পূর্বে দরিদ্র প্রবীণ নারী গৃহকর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করলেও বর্তমানে তারা তেমন ভাবে কোন গ্রহকর্মী হিসেবে নিয়োগে প্রাধান্য পাচ্ছে না। অন্যদিকে পুরুষ প্রবীণ অনেক সময় খুব কম সংখ্যক নিদারুন পরিশ্রম করে রিকশা চালায় কিন্তু এই করোনা কালে আয় একেবারে কমে যাওয়ার অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে প্রবীণ নারীরা ময়লা আবর্জনা হতে কাগজ অথবা প্লাস্টিকের বতোল সংগ্রহ করা, শাকসবজী বিক্রি করেছে। পুরুষ প্রবীন অনেকেই সবজী, মৌসুমী ফল ও মাছ বিক্রির পথ বেছে নিচ্ছে। তাই বলে যে প্রতিদিনই আয়ের চিত্র দেখা মেলে তা নয়।

বেশ কিছু দরিদ্র প্রবীণ করোনা কালিন সময়ের আগে কোন না কোন কাজে নিয়োজিত থাকলেও এখন হয়তো পরিবারে তার সন্তানের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিও যে আগের মত উপার্জন করতে পারছে তা নয়।

কোভিড -১৯ সার্বিক প্রেক্ষপটে বদলে দিয়েছে। অনেক সময় দরিদ্র প্রবীণরা নিরুপায় হয়ে ভরণ-পোষণের তাগিদে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, এমনকি ভিক্ষাবৃত্তির মতো মানবেতর কাজেও জড়িয়ে পড়েন, যা অমানবিক। আগের তুলানায় কোভিড-১৯ কালিন কালিন সময় ঢাকার রাস্তাগুলোতে প্রবীণ ব্যক্তিদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত হতেই বেশি লক্ষ করা যায়।

সংবাদ মাধ্যমে করোনাকালীন এ সময়ে বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে উঠে এসেছে – করোনা আক্রান্ত সন্দেহে প্রবীণ পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের নির্মম ব্যবহারের কথা। যেমন, বনের মধ্যে রেখে ফেলে আসা, জানাজা বা লাশ সৎকারে এগিয়ে না আসা – এবিষয় গুলি শুধু হতাশার ব্যাপার নয় বরং অমানবিকও বটে।

শহরের বস্তিগুলিতে সংক্রমনের চিত্র তেমন দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় হয়তো এখনো প্রবীণদের অবহেলায় ফেলে আসার সংবাদ পাওয়া না গেলেও প্রবীণ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবার সহানুভূতির আর সেবার পরিবর্তে অনিহা আর অবহেলার ছবি বস্তি গুলোতে দেখা যায়।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রবীণদের জন্য আলাদা করে কোন ব্যবস্থা নেই বলেই চলে। সেখানে বর্তমান কোভিড-১৯ সংকটকালে এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছেন।

বর্তমানে প্রবীণ জনগোষ্ঠী কী পরিমাণে সুরক্ষাহীনতায় রয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমনের  ক্রমধারা কেমন এবং সরকার বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কিভাবে কতটুকু এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে। এ সকল নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ জানাটা খুবই জরুরি নীতিনির্ধারনের পূর্বেই। করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল সরকার যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেখানে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে – লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ, বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে। এ বিষয়টি আশা জনক হলেও বস্তিতে বসবাসরত জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানান্তরিত প্রবীন জনগোষ্ঠী কত টুকু উপকৃত হচ্ছে তা জানাটাও আবশ্যক।

প্রবীণরা স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সাথেই থাকতে চান এবং সামাজিকভাবেও সেটাই হয়ে আসছে। তবে সময়ের সাথে সাথে সামাজিক অবস্থা এবং পারিবারিক কাঠামোতে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে প্রবীণদের জন্য যথেষ্ট সেবা-ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি অনেক দেশের অর্থনীতিতে গ্রহণযোগ্য বোঝা হিসেবে ইতোমধ্যেই দেখা দিচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র সঠিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বয়স্ক মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যাকে সহজে হয়তোবা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন সচেতনতামূলক যৌথ উদ্যোগ।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আলাদা করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে স্বতন্ত্র জেরিয়াট্রিক কেয়ার এবং বাড়ি বাড়ি ভিত্তিক সেবা প্রদানের বিষয়টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সঠিক স্থানে রাখতে হবে। এক কথায় বাড়ন্ত এ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: কারিশমা আমজাদ 

কলাম লেখক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও 

পি এইচ ডি ফেলো, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Email: sristy70@gmail.com

১ টি মন্তব্য

  1. […] আরো পড়ুন,জলবায়ু অভিবাসী দরিদ্র প্রবীণ বস্তীব… […]

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে