ভারি বৃষ্টিপাত আর বন্যায় কুড়িগ্রামের জনজীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


ভারি বৃষ্টিপাত আর পঞ্চম দফা বন্যায় কুড়িগ্রামের জনজীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে।
ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বন্যায় সবকটি নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের মানুষ যখন পানিবন্দি হয়ে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে ঠিক তখনি ভারী বৃষ্টিপাতে নাজেহাল পুরো তিন উপজেলাবাসী।
এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতে নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মের যোগান বন্ধ হওয়ার পথে। টানা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে গেছে উঠতি আমনের আবাদ। এছাড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বেগুন, মুলা, পাটশাক, লালশাক, লাউ, পটলসহ সব ধরনের সবজির আবাদ। কাদা আর পানিতে চলা-চলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে গ্রামীন জনপদের কাচা রাস্তা।
গত সোমবার থেকে অনবরত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও গতকাল (শনিবার) দিনটি বৃষ্টিহীন থাকলেও সন্ধ্যার পর রুদ্ররুপ ধারন করে আকাশ। মেঘের গর্জণে ভারী হয় বাতাশ। সারা রাত অঝড়ে ঝড়তে থাকে বৃষ্টিপাত।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়ার পর্যবেক্ষক মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় জেলায় ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিাপত রেকর্ড করা হয়।
বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। বন্যার্তদের দূর্ভোগ আরো কয়েকগুন বেড়েছে। এদিকে খেটে খাওয়া মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে জেলার বেশীরভাগ আমন আবাদ ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। অনবরত বৃষ্টির কারনে আমন ক্ষেতে সময়মত সার কীটনাশকও প্রয়োগ করতে পারছেন না কৃষক। সবজীর আবাদ সমূলে নষ্ট হচ্ছে বৃষ্টির কারণে। কৃষক হাসেম আলী জানান, ধার দেনা করে তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলাম, বৃষ্টির করনে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শাকচাষী ফরিদুল জানান, বৃষ্টির কারণে তার এক বিঘা লালশাক, একবিঘা মুলার শাক নষ্ট হয়ে গেছে। শুপারী চাষী রহিম মিয়া ও ধীরেন্দ্র জানান, অতিবৃষ্টির কারণে গাছের কচি শুপারি ঝড়ে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, লঘু চাপ ও মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা ও মাঝারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

অপরদিকে আজ (রবিবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও ৯টার দিকে ০২ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে ৩০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পঞ্চম দফার বন্যায় দুধকুমার ধরলা অববাহিকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বন্দি এসব মানুষ চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। নদ- নদীর পানি উঠা নামার সাথে সাথে বেড়েছে নদী ভাঙন।
জেলায় প্রায় ৬৭টি পয়েন্টে শুরু হয়েছে তিব্র নদী ভাঙন। চলতি বন্যায় তিনটিসহ চারমাসে ১২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়ে আরো বেশকয়টি বিদ্যালয়। এছাড়া মসজিদ, ঈদগাহমাঠসহ সহ¯্রাধীক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যাদূর্গত এবং ভাঙন কবলিতদের জন্য ১২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা কৃষিবিভাগ সূত্রে জানাযায়, চলতি বন্যায় নিম্নঞ্চল এবং চরাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বিভিন্ন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশুলী আরিফুল ইসলাম জানান, চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরো দু’তিনদিন স্থায়ী থাকতে পারে। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে বন্যার সার্বিক উন্নতি হয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে