ফুলবাড়ীতে ভাঙ্গা সড়কের উপর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাকো তৈরী করলো স্থানীয়রা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চতুর্থ দফা বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে যায় একমাত্র চলাচলের সড়কটি। প্রায় পাচ ফুট দীর্ঘ এবং কুড়ি ফুট গভীর খালের সৃষ্টি হওয়ায় যোগযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ জরুলী প্রয়োজনে কলাগাছের ভেলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এপাড় ওপাড় হয়েছেন। একমাত্র সড়কটি ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও হাজার হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকার জনসাধারণের চলাচলের সু-ব্যবস্থা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

অবশেষে গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগেম বাঁশ, নগদ অর্থ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ওই ভাঙ্গা সড়কের খালের উপর তৈরী করেছে বাঁশের সাকো। নির্মিত বাঁশের তৈরী সাকো দিয়ে চলাচল করছে উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি, কাগজিপাড়া, আগগ্রাম, পাঁচগ্রাম, আলগার চর সহ ফুলবাড়ীর ভুখন্ডের সাথে যুক্ত, ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরা ল হলোখানা গ্রামসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার বাসিন্দা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে গত রবিবার ও সোমবার ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় চল্লিশ- প াশ জন যুবক-তরুণকে চলাচলের ভাঙ্গা খালের উপর বাঁশের সাকো তৈরী কাজ শেষ কওে এবং নিজের তৈরী সাকো দিয়ে স্থানীয়রা যাতায়াত করছেন।

আহাত আলী (৫০) ,লাভলু মিয়া (৩৫) ও রফিকুল ইসলাম (৪০) জানান, প্রথম দু-দফা বন্যায় সড়কটির কিছু অংশ ভাঙ্গলেও মেরামত করে কোন রকমে চলাচল করত এলাকাবাসী। কিন্তু দশ থেকে পনের দিন আগের চতুর্থ দফা বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সম্পুর্ন সড়ক ভেঙ্গে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। খাল ভরাটের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও কোন সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে সাকো তৈরীর কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসে তাদেরকে বকশিস হিসাবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন তারা।


ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু জানান, স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাকো তৈরীর খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে এলাকাবাসীকে উৎসাহ দিয়েছি। সামনে বরাদ্দ এলে সবার আগে ওই সড়কের খাল ভরাট করে রাঙ্গামাটি বাসীর চলাচলের জন্য সুব্যবস্থা করা হবে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে