কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গো খাদ্যের তীব্র সংকট


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পর পর পাঁচ দফা বন্যায় ফসলের পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে তৃণভূমি। টানা বৃষ্টিতে পঁচে গেছে শুকনো খর। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট। গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থরা।


এবারে উজানের পাহারী ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জুনের মাঝামাঝিতে দেখা দেয় বন্যা। এর পানি নেমে যাওয়ার আগেই বন্যা আবারও দ্বিতীয় বারের মত আঘাত হানে। এভাবেই হয়ে যায় তৃতীয়, চতুর্থ ও প ম দফা বন্যা। দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় তলিয়ে থাকে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ড।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী এতে নিমজ্জিত হয় ৬ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ২১৫ হেক্টর জমির মাষকালাই, ৩০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত। অপরদিকে প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্যানুযায়ী দীর্ঘসময় পানির নীচে ডুবে থাকে ২৭৩ একর গো চারণভূমি। জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যায় ৫১ একর জমিতে লাগানো বিভিন্ন জাতের ঘাষ। এদিকে টানা বৃষ্টিতেপচে নষ্ট হয়ে গেছে গো-খাদ্যের জন্য স্তুপ করে রাখা শুকনো খর। অতিবৃষ্টিতে নতুন করে খর প্রস্তুত করে রাখাও সম্ভব হয়নি। ফলে খাদ্য সংকটে পড়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার গরু, ২১ হাজার ২৪টি ছাগল, ১ হাজার ১০২ টি ভেরা। তাদের মুখে খাবারের যোগান দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে পশু মালিকদের।
বন্যার আগে প্রতি একশ খড়ের আটির দাম ছিল ২শ থেকে ৩শ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৩শত টাকায়। তাও দুস্প্রাপ্য। মাড়াই করা খরের দাম আরও বেশী। প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শত টাকা দামে। অপরদিকে দাম বেড়েছে সব ধরনের পশু খাদ্যের। বাধ্য হয়ে গবাদি পশু বাঁচাতে বিলের কচুরিপানা, কচি কলাগাছ, বাঁশের পাতা, কাঁঠালের পাতার উপর ভরসা করছেন মালিকরা। এ অবস্থায় খাদ্য সংকটে থাকা গবাদি পশু মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কমে যাচ্ছে ওজন এবং দুধের যোগান। ফলে দাম কমেছে এসব গবাদী পশুর। ক্ষতিতে পড়েছে পশু পালনকারীরা।
কেদার ইউনিয়নের শহীদ মিয়া জানান, ইরি-বোরো মৌসুমে বৃষ্টি থাকায় খর সব পচে গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় শুকনো খর মজুদ করতে পারেন নাই। এখন ৫টি গরুর খাদ্য সংগ্রহ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে। এলাকায় খড়ের যোগান নেই। তাই কচি কলা গাছ কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। সুবল পাড় এলাকার বাদল সাহ, আব্দুল মজিদ বলেন, খরের অভাবে গরুকে বিলের কচুরি পানা থাওয়াতে হচ্ছে। নারায়নপুর ইউনিয়নের করিম মিয়া বলেন, চরা লের সব চারণভূমি বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঘাষের সংকট দেখা দিয়েছে। ধানের কুঁড়ো, খুদের ভাত দিয়ে তার চারটি মহিষের জীবন চলছে। এদিকে খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে তাদের ছাগল- ভেরাগুলো। এমন অবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদী বন্যাকেই দায়ী করছেন তারা।
গো-খাদ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ২৫০ পরিবারকে ৭ মে.টন পশুখাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান সংকটে থাকা ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে