ফুলবাড়ী‌তে বৃ‌ষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে আবারো আমন ধানের ব্যাপক ক্ষ‌তি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:ফুলবাড়ীতে চতুর্থ দফা বন্যা কাঁটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো বৃ‌ষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে শতশত হেক্টরের আমন ক্ষেত হেলে পড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ‌তি হ‌য়ে‌ছে। গত চারদিনের হালকা- বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে উপজেলার জনজীবন দুর্ভোগে পরিনিত হয়েছে। হালকা বৃষ্টির সাথে সাথে দমকা বাতাসের কারণে উপজেলার ৬৬ টি পূজা মন্ডপে নেই কোন আনন্দ উৎসব।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া হালকা-বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে ঘরবাড়ী গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি না হলেও উপজেলার নাওডাঙ্গা ,শিমুলবাড়ী, ফুলবাড়ী সদর,কাশিপুর, ভাঙ্গামোড় ও বড়ভিটা ইউনিয়নের শতশত হেক্টর জমির আমন ক্ষেত মাটিতে হেলে পড়েছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা, পূর্বফুলমতি, নাওডাঙ্গা ,পশ্চিমফুলমতি ও গজেরকুটিসহ নয়টি গ্রামে।

শনিবার দুপুরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শতশত আমন খেতে বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে হেলে পড়া ধানের শীষ পঁচে নষ্ট হওয়ায় আশংকা করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া দমকা বাতাসে বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, লালশাকসহ অন্যান্য শাক-সবজীর পাতা ছিঁড়ে যাওয়া, হেলে পড়াসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিমফুলমতি গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম (৪৫),একই গ্রামের কৃষক হালাল উদ্দিন (৪২), সায়েদ আলী (৪০) ও জহুরুল ইসলাম জানান তাদের প্রত্যেকের দেড় থেকে দুই বিঘা করে আমন খেত বাতাসে হেলে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় আমরা বড় দুচিন্তায় আছি। আর কয়েকদিন পরেই খেতের ধান পাঁকতো। জানি না আমাদের কি হবে।

একই ইউনিয়নের পূর্বফুলমতি গ্রামের মন্ডল আলী ,সবুজ মিয়া ও গজেরকুটি গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও আব্দুল আলিম জানান, ধার-দেনা করে আমন ধান জমিতে লাগাইছি। হঠাৎ দমকা-বাতাসে খেতের সমস্ত ধান গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এবছর পেটের ভাত জোগার হবে কিনা তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।

উপ‌জেলা কৃ‌ষি কর্মকর্তা মাহবুবুর র‌শিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। গত চারদিনের বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২৩০ হেক্টর আমন ধান মাটিতে হেলে পরেছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের হেলে পড়া ধান গাছগুলো পরিদর্শন করছি। সেই সাথে হেলে পড়া ধান গাছগুলো ছোট ছোট করে আঁটি বেঁধে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। ধান গাছ গুলো তুলে দিলে কিছুটা রক্ষা পাবে কৃষক।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে