ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

রাসেল মাহমুদ, সুজানগর, পাবনাঃ মাত্র ১২ বছরের ছোট্র ছেলে রবিউল ইসলাম। এই বয়সে যার সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করা ও ঘুরে বেড়ানোর কথা। কিন্তু এখন ছোট্ট রবিউলের বেশিরভাগ সময় কাটছে হাসপাতালে । প্রাণচঞ্চল ফুটফুটে এই শিশু দুরারোগ্য ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। তাকে প্রতি মাসে ঔষধপত্রের পাশাপাশি দুই ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রবিউলের চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত দরিদ্র কৃষক আব্দুর রশিদ শেখ।

শিশুটির বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। অর্থের অভাবে দরিদ্র পরিবারের রবিউলের চিকিৎসা এখন বন্ধের উপক্রম। তার বাবা রশিদ শেখ যা আয় করতেন তা দিয়েই চলতো পাঁচ জনের সংসার। কিন্তু ছেলের ক্যান্সারের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে সব আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে হতভাগ্য বাবার। রবিউলকে নিয়ে হাসপাতালে কাটছে নির্ঘুম রাত। প্রতিমাসে শিশুটির চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তাই দরিদ্র বাবার পক্ষে চিকিৎসার এত ব্যয়বহন করা একেবারে অসম্ভব।

জানা গেছে, প্রায় ছয়মাস হলো ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে রবিউল। কিন্তু জ্বর ও শরীরে ব্যাথা অনুভব হলে বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসকের দেয়া ঔষধ খেতো শিশুটি। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখায় শিশুটির বাবা। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে শিশুটির ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রবিউলের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরেছে। আর এ চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এবং এ রোগের চিকিৎসা ও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাকে প্রতি মাসে রক্ত দিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তার পরিবার।

অন্যের কাছে ধারদেনা ও নিজের দুইটি গরু বিক্রি করে কোনও রকম শিশুটির চিকিৎসা সচল রেখেছেন বাবা রশিদ শেখ। এখন অর্থ সঙ্কটে রবিউলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই সমাজের দানশলী বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি পরিবারের।

কান্না জড়িত কন্ঠে ছেলেটির বাবা রশিদ শেখ জানান, আমি গরিব মানুষ কোনও রকম সংসার চলতো। কিন্তু হঠাৎ করে আমার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ায় তার চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ছেলেকে নিয়ে পাবনা, রাজশাহী বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়েছি। আমি মানুষের কাছে ধারদেনা করে চিকিৎসায় ব্যয় করে নিঃস্ব। আমার অবুঝ শিশুটার জন্য একটু সাহায্য করুন ভাই। ছেলের কষ্ট আমার আর সহ্য হচ্ছে না। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন রশিদ শেখ। ছেলেটির চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ছেলেটির সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা— বিকাশ -০১৭৭৬-৬১৮৮৩১ আব্দুর রশিদ শেখ- (ছেলের বাবা)

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে