1. admin@bdjournalist.com : স্টাফ রিপোর্টার : Md Rashedul Alam
  2. hmiraj550@gmail.com : Miraj Hossain : Miraj Hossain
  3. commercila.rased@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : Md. Jahangir Alam polok
  4. rjarifchowdhury@gmail.com : নিউজ ডেস্ক, : নিউজ ডেস্ক,
  5. cruz_wylie9@kinokradco.ru : cruz66221990322 :
  6. md7574@gmail.com : shamim miya :
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাথরঘাটা-ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান আর নেই তালায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন পিতাকে পুত্রের মারধর, বাড়ি থেকে বেরুবার রাস্তা বন্ধ বাবার কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের, ধর্ষকসহ আটক ৪ কেশবপুরে উন্মুক্ত ভর্তি লটারী ২০২১ অনুষ্ঠিত “২১শে গ্রেনেড হামলায় আহত খোকন প্রার্থী হচ্ছেন” মাধবপুর পৌর নির্বাচন:প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০ কেন্দুয়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রচারণায় ছাত্রলীগ বগুড়ায় রেলক্রসিং ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে গেছে ট্রাক লাফিয়ে প্রাণরক্ষা চালকের

করোনায় অভ্যান্তরিন স্থানান্তরের প্রতিচ্ছবি

Reporter Name
  • বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হলো দক্ষিণ এশিয়া যেখানে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ (১.৮৪১ বিলিয়ন (বিশ্বব্যাংক, ২০১৮) বসবাস করে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ২০১৮-এর তথ্যানুযায়ী, একক ভাবে বাংলাদেশ ২.২% (১৬১.৩৫৬ মিলিয়ন) মানুষ।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)–এর ‘স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্ট ২০১৯’ এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬৮.১ মিলিয়ন। তবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত জনসংখ্যা বিভাগের তথ্যানুযায়ী (২০১৭) প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাংলাদেশে ১২৬৫ জন। উল্লেখ্য যে, সমগ্র দেশের প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম হলেও প্রদেশ/এলাকা/শহর ভিত্তিক বেশি জনঘনত্ব হওয়ার কারণে যেমন, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক বেশি।

যে সকল রাষ্ট্রে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থেকে যায় যদি না সতর্কতামূলক প্রতিরোধ ও শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিরাজমান থাকে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে বাংলাদেশ- যেখানে করোনাভাইরাস খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ- দক্ষিণ এশিয়ায় দেশটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ হবার কারণে এবং মানুষের ব্যক্তিগত ও আচরণগত সুস্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতা অনেক দুর্বল থাকায় পর্যাপ্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার অনুপস্থিতে সহজেই এ ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে মানুষকে সংক্রমিত করছে।যদিও মৃত্যু হার অনান্য দেশের তুলনায় অনেকাংশেই কম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে বড় শহরগুলোতে সারা দেশের গ্রাম থেকে আসা বস্তিবাসী বা ভাসমান মানুষদের মধ্যে অর্ধেকই এসেছেন কাজের খোঁজে। দেশের সব শহর ও নগরে মানুষ বাড়ছে। শহরে বাস করা মানুষের ৩৫ শতাংশই বস্তিবাসী। পানি, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সুযোগের অভাবে শহরে দরিদ্র মানুষের অবস্থা গ্রামের দরিদ্রদের চেয়ে খারাপ।

ঢাকার এক বর্গকিলোমিটার বস্তি এলাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস করে। বস্তিতে বাস করা পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি। গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য সারা দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকলেও শহরে তেমন কিছু নেই। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কিছু এনজিও এই সেবা দেয়।

জনমিতিক পরিমাপে দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যার আকার ও ঘনত্ব ছাড়া এখানে স্থানান্তর পর্যালোচনা করা দরকার। এ অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মূলতঃ গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর করে থাকে মানুষ। বাংলাদশেও তার ব্যতিক্রম নয়। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলটিতে বর্তমানে ৩৪% মানুষ নগরে বসবাস করা মানুষ। দিল্লি, মুম্বাই, ঢাকা পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি মেগাসিটির ৩টি। বাংলাদেশে ৩৭% মানুষ নগরে বসবাস করে। তবে উল্লেখ্য যে, এখানে নগর জনসংখ্যার ৩০.৫%-ই বস্তিবাসী যারা মূলত গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় জড়িত।

বিশ্বব্যাংক- এর তথ্যানুযায়ী, বস্তিতে শহরে জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশে ৫৫% বসবাস করে। এ সকল বস্তিবাসীর জীবনের গুণগত মান উন্নয়ন বিশেষ করে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এখানে নগর জনসংখ্যার উচ্চ ঘনবসতি রয়েছে। তাছাড়া ভাসমান, বস্তিবাসী ও নিম্ন-আয় ও বেকার মানুষের অপূর্ণ চাহিদাও এখানে বেশি। বস্তির পরিবেশ, অপরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধ পানির অভাব লক্ষ্যনীয়।

পরিষ্কার পানির অভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মিডিয়ায় প্রচারিত বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার যে প্রচারণা তা বাস্তবায়ন বস্তিতে যেন বিশেষ এক চ্যালেঞ্জ। দেশজুড়ে যদি করোনাভাইরাসের গণসংক্রমণ হয় তাহলে অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকা এ সকল বস্তির নিম্নবিত্তের মানুষ যারা শহরে রয়েছেন কিংবা লক-ডাউনের মতো কর্মসূচিতে স্থান পরিবর্তন করেছেন তারাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

করোনা পরিস্থিতি দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ গুলির জীবনে ব্যবস্তায় আজ পালতে গেছে। স্থানান্তরন প্রক্রিয়াতেও এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রতিদিন নতুন করে বহু মানুষ ঢাকায় আসছেন। তাদেরও আশ্রয় মিলছে বস্তিতেই। নিযুক্ত হচ্ছেন নানা পেশায়। গৃহকর্মী থেকে শুরু করে গার্মেন্টস শ্রমিক, গাড়িচালক, দিনমজুর এমন নানা পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। যা করোনা কালের আগেও হত।

তবে এখন অনেকেই আর পেশা থেকে বিচুত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অন্য অনেক কাজের চেষ্টা চালিয়ে কোনমত টিকে থাকলেও আর পেরে উঠতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে গ্রামে। শাহজাদপুর খাল পাড় বস্তিতে থাকা আখি এক সময় বাসাবাড়ীতে কাজ করতো, আর স্বামী ছিল কোন এক বাসার ড্রাইভার। ৪৮০০ টাকা ঘর ভাড়া দিয়েও, মাস গেলে মাইনে যা আসতো দিন খারাপ যেত না। কিছু দুরেই তার শশুড় শাশুড়ী অন্য এক বাড়িতে ৪৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া থাকতো আর শশুড় কাজ করতো দারোয়ান হিসেবেই। করোনা আজ বদলে দিয়েছে সবটাই, আগের একটা সন্তান থাকলেও গত কয়েক মাসে কোল জুড়ে সংসারে এসেছে নতুন আর এক সদস্য। লকডাউনে গাড়ি চালনো বন্ধ থাকলেও পরের কয়েক মাস অর্ধেক বেতনে পেলেও ২ মাস হলো কাজ নাই স্বামী, নতুন সন্তান আসাতে এখন সেও বাসাবাড়ীর কাজ হারিয়েছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে শশুরকেও ছাটায় করেছে দাড়োয়ানের কাজ থেকে। শাশুড়ীর অসুস্থ শরীর, শহরে ক্রমবর্ধমান বাজার, টিকে থাকার লড়ায়ে সিধান্ত হয়েছে এ মাস শেষেই দুবেলা খাবার আশায় সবাই ফিরে যাবে গ্রামে।

অন্যদিকে ভুমিহীন হয়ে পড়েছে লাইলি বেগম, গত কিছু দিন হয় পোলাপাইন নিয়ে বাঁচার আশায় ঢাকা এসেছে। তার ঘরের মধ্যে বাতি না জ্বালালে কিছু দেখা যায়না কারণ কোন জানালা নেই। একটা খাটে চারজন থাকেন। গাদা করে রাখা হাড়ি-পাতিল, ছোট আলমারিসহ সংসারের সব কিছু। বস্তিতে সবাইকে প্রতিটি কাজের জন্য লম্বা লাইন দিতে হয়। একজনের পর একজন রান্না করে। অনেক সিরিয়াল দিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা টয়লেট, গোসলখানা, পানির কল সবখানেই। এখানে সেখানে আবর্জনা। টয়লেট আর গোসল করার জায়গাগুলোর এতটাই করুণ অবস্থা সেদিকে তাকানো মুশকিল। এখানকার মানুষগুলোর এর বাইরে আরও কোন উপায় নেই।

নগর দারিদ্র্য গ্রামীণ দারিদ্র্যের চেয়ে ভিন্নতর। গ্রামের দরিদ্র মানুষের আর্থিক অবস্থা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। কিন্তু শহরের বস্তিবাসীর আর্থিক অবস্থা উন্নত হলে তাঁর মর্যাদা বাড়ে না। নগরে সামাজিক দারিদ্র্য স্থবির হয়ে আছে। খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টিসহ নানা বিষয়ে শহরের দরিদ্ররা, বিশেষ করে বস্তিবাসী বৈষম্যের শিকার। শহরের ও গ্রামের রোগের প্রাদুর্ভাবের পার্থক্য আছে। দেশ যখন শহরে পরিণত হচ্ছে, তখন রোগের ধরনে নানা পরিবর্তন আসছে, পরিকল্পনাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে অগ্রমুখি পদক্ষেপ গ্রহন জরুরি।

PP=Karisma

লেখক: কারিশমা আমজাদ

কলাম লেখক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও

পি এইচ ডি ফেলো, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Email:sristy70@gmail.com

Social Media

আরও খবর পড়ুন
                     
                   
error: Content is protected !! You are not allowed to copy, Thank you