আমতলীতে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি; ১০ টাকার কমে সরেনা হাতি।

এইচ. এম. রাসেল, আমতলী প্রতিনিধি:

এ দোকান, ও দোকান ঘুরছে হাতি। পিঠে বসা মাহুত। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় তুলে সালাম দিচ্ছে। তারপর শুঁড় এগিয়ে দিচ্ছে সোজা দোকানদারের কাছে। যতক্ষণ পর্যন্ত শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে দিচ্ছে না কেউ, ততক্ষণ পর্যন্ত শুঁড় তুলছে না হাতি।

এভাবে দোকান থেকে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরে বরগুনা আমতলী পৌর শহরের সাপ্তাহিক বাজারের দিন এভাবেই হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করছিলেন যুবকটি।

আমতলীতে হাতি-দিয়ে-চাঁদাবাজি

দোকানদাররা জানান, বুধবার সকাল থেকে আমতলী পৌর শহরের সাপ্তাহিক বাজারে এভাবেই হাতি দিয়ে চাঁদা তোলা শুরু হয়। টিএম রেদোওয়ান বাইজিদ বলেন, ‘দুপুরে হঠাৎ দেখি দোকানের ভেতরে শুঁড় ঢুকিয়ে দিয়েছে বিরাট আকৃতির এক হাতি। টাকা না দিলে হাতি দোকানের সামনে থেকে সরে না। বাধ্য হয়ে ২০ টাকা দিয়েছি।’

মুদি মনোহারী ভাসানী দোকানি আঃ মজিদ মিয়া বলেন, ‘বাজার ঘুরে ঘুরে চাঁদা তুলছে হাতিটি। যখন আমার দোকানে এসে হাতিটি শুঁড় এগিয়ে দেয়, আমি তার শুঁড়ে পাঁচ টাকা দেই। কিন্তু হাতিটি কোনোভাবেই পাঁচ টাকা নেয় না। আবার দোকানের সামনে থেকে সরেও না। ফলে বাধ্য হয়েই ১০ টাকা দিয়ে হাতিকে বিদায় করতে হয়েছে।’

মাসুম বিল্লাহ্ বলেন, হঠাৎ শহরে হাতির দেখা মিললে সবার ভালো লাগতে পারে। তাই শখের বসে হাতিটিকে যে যা পারবে দিবে। কিন্তু এভাবে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করাটা অন্যায়।

হাতির চাঁদা আদায়ের সময় কথা হয় হাতির মাহুতের সঙ্গে। তিনি জানান, বিভিন্ন যানবাহন, ঘরবাড়ি ও দোকানে হাতি দিয়ে টাকা তোলেন তিনি। তাঁর অন্য কোনো পেশা নেই। হাতি দিয়ে দৈনিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মতো আয় করেন।

তবে হাতির মাহুত দাবি করেন, কাউকে টাকার জন্য জোর করেন না। হাতি দেখলে সবাই খুশিমনে টাকা দিয়ে দেন। খুশি করে দেওয়া টাকা চাঁদাবাজি হতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।


মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে